নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট রাজশাহীর সিটি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। তবে হাট জমজমাট হলেও পশুবাহী ট্রাকে মহাসড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন চালক ও ব্যবসায়ীরা। ট্রাকচালকদের দাবি—হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারকারী চক্র পথে পথে এই চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এতে কোরবানির পশুর সরবরাহ চেইন যেমন হুমকিতে পড়ছে, তেমনি পরিবহন খরচও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত নামলেই রাজশাহীর সিটি হাট থেকে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি পশুবাহী ট্রাক ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। চালকদের অভিযোগ, রাজশাহী ছাড়ার পর থেকেই শুরু হয় চাঁদাবাজির মহোৎসব। বিশেষ করে বেলপুকুর, পবা হাইওয়ে (পুঠিয়া), নাটোরের বনপাড়া এবং যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে সবচেয়ে বেশি চাঁদা দিতে হয়। ঢাকা রুটের একটি ট্রাককে গন্তব্যে পৌঁছাতে কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম রুটের ট্রাকগুলোকে অতিরিক্ত আরও ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কোথাও পুলিশের চেকিংয়ের নামে, আবার কোথাও স্থানীয় বখাটেরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ব্যারিকেড দিচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও খামারিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং গাড়ি আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ট্রাকচালক বলেন, "টাকা না দিলে গাড়ি ছাড়বে না, উল্টো মারধর করে। আমরা নিরুপায় হয়ে মালিক ও বেপারিদের টাকা থেকে এই চাঁদা পরিশোধ করি।
এ প্রসঙ্গে সিটি হাটের ইজারাদার পক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো চালক বা ব্যবসায়ী তাদের কাছে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তবে হাট ও সংলগ্ন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন।
অন্যদিকে, রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম চালকদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "অভিযোগগুলো শতভাগ সত্যি। বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত মনে হলেও মহাসড়কে চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। চালকেরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন।"
চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকার দাবি করলেও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের এসপি মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, "আমাদের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা বসে নেই, মহাসড়কে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
একইভাবে হাইওয়ে পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিআইজি আব্দুল্লাহ হিল বাকী জানান, কোরবানির পশুবাহী যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে তারা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং চাঁদাবাজির সাথে যারাই জড়িত থাক, তথ্য পাওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে সিটি হাটে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষের কেনাবেচা হচ্ছে। রাত গভীর হলে একের পর এক ট্রাক দেশজুড়ে বিভিন্ন হাটে প্রাণী পরিবহন করছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখতে এবং ক্রেতা পর্যায়ে পশুর দাম সহনীয় রাখতে চাঁদাবাজি বন্ধের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী চালক, ব্যবসায়ী ও খামারিদের দাবি—কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং চিহ্নিত পয়েন্টগুলোতে অবিলম্বে যৌথ বাহিনীর তদারকি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com