নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৫ আগস্টে দুই হাতে গুলি চালিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত শুটার রুবেল গ্রেপ্তারের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—তার গড়ে তোলা সিন্ডিকেট আদৌ ভেঙে পড়েছে, নাকি নতুন নেতৃত্বে আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, একাধিক অভিযোগ ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—রুবেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মো. আলি হাসান তুষারই বর্তমানে সেই সিন্ডিকেট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের আগেই ছাত্র আন্দোলন দমাতে রুবেলকে সন্ত্রাসী সরবরাহ, অর্থের যোগান এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তুষার।
৫ আগস্টের পর রুবেল ও তুষার দুজনই গা ঢাকা দেন। পরে র্যাব প্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা থেকে রুবেল গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। রুবেল আটকের কিছুদিন পর থেকেই তুষার ধীরে ধীরে আড়াল ভেঙে এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেন।
প্রথমদিকে বহরমপুরে অবস্থান নিয়ে জুয়ার বোর্ড পরিচালনার অভিযোগ ওঠে, তবে কিছুদিন পর সেটি বন্ধ করে আবার লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় নিজের অবস্থান শক্ত করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বিগত সময় থেকেই লক্ষ্মীপুর কাঁচাবাজার এলাকায় “একতা ড্যান্স ক্লাব”-এর আড়ালে রাতভর জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিরাতে লাখ লাখ টাকার জুয়ার খেলায় অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়ারীরা ভিড় জমাতো সেখানে। একইসাথে চন্ডীপুর এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে তার সহযোগীদের নিয়ে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রুবেলের গ্রেপ্তারের পর তার পুরনো নেটওয়ার্কগুলো পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মাদক সিন্ডিকেট পুনর্গঠন, জুয়ার বোর্ড পরিচালনা, সুদের ব্যবসা, ক্লিনিক থেকে চাঁদা উত্তোলন এবং রাজশাহী মেডিকেলের দালাল চক্র নিয়ন্ত্রণ—এমন একাধিক অভিযোগ এখন তুষারকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর মোড়ের নিপা ফার্মেসিসহ বিভিন্ন ফার্মেসিতে ভারতীয় ও অবৈধ ওষুধের সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রুবেলের পরিচালিত সিন্ডিকেটগুলোর কার্যক্রম এখনো থেমে নেই; বরং সেগুলো নতুন ব্যবস্থাপনায় চলছে। এসব কার্যক্রম থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ রুবেলের পরিবারে যাচ্ছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তুষার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করছেন এবং প্রশাসনের কিছু অংশকে ‘ম্যানেজ’ করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তুষার বলেন, তার সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তিনি ফোনে কথা বলতে আগ্রহী নন; সরাসরি বসে আলোচনা করার কথাও জানান।
এদিকে রাজপাড়া থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ডিবির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নতুন করে কারা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করছে, তা যাচাই করে দেখা হবে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—রুবেলের অনুপস্থিতিতে যে প্রভাববলয় গড়ে উঠছে, সেটি কি কেবল অপরাধচক্রের ধারাবাহিকতা, নাকি সেই প্রভাবকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ, রুবেল যেভাবে অতীতে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়ে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনই ধাঁচে তুষারও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই নেটওয়ার্ক, একই কৌশল এবং একই ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি—এসব কারণে অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও কাঠামোটি অপরিবর্তিত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “রুবেল নেই, কিন্তু তার সিস্টেম ঠিকই চলছে।”
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com