নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রোববার রাতে মার খেয়েছেন সাংবাদিকরা। সোমবার সকালে প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন তাঁদেরই শিক্ষক ও সহপাঠীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সঙ্গে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রবীন্দ্র ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনা কী ছিল
গতকাল রোববার রাতে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। এতে চার সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
“দু’দিন ধরে হুমকি, প্রশাসন ছিল নীরব”
মানববন্ধনে অধ্যাপক আল-আল মামুন বলেন, জুলাইয়ের পর এমন দৃশ্য দেখতে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। তাঁর অভিযোগ, দুই পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত দুই দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল, আর সেই সুযোগেই সহিংসতা ঘটেছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সাংবাদিকরা ছিলেন মানুষের চোখ-কান। সঠিক সাংবাদিকতার সুযোগ না থাকলে দেশ আবার অন্ধকারে ঢুকে যাবে।
“৩০ বছরে এমন দেখিনি”
অধ্যাপক মশিহুর রহমান জানান, তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা তিনি কখনো দেখেননি। তাঁর দাবি, প্রশাসন অগ্রাধিকার দিয়ে মামলা করুক এবং ফৌজদারি আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করুক। অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে, গণমাধ্যমকর্মীরাও নির্বিঘ্নে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
গণমাধ্যম নিয়ে বড় অভিযোগ
সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে রাতারাতি দখলের চেষ্টা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হয়েছে, দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমে সরাসরি হামলাও হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা এসব হামলায় মদদ দিচ্ছেন। গতকাল রাতে রাবিতেও নির্দিষ্ট করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ক্লাস বর্জন, দুপুরে সভা
বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত ও ব্যথায় কাতর, তখন তাঁদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এ কারণে আজ বিভাগে ক্লাস বর্জন করা হয়েছে। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভা ডাকা হয়েছে, সেখানে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে।
“আজকের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে পদত্যাগ করুন”
বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি বলেন, হামলার স্পষ্ট ফুটেজ রয়েছে। আজকের মধ্যে প্রশাসন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁর প্রশ্ন, যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীরা মার খায়, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব আছে কি?
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলামসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব।



















