নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। এদিকে একই দিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাবি শাখার তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ।
গত রোববার রাতে জিয়াউর রহমান হলের সামনে হামলায় চার সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রবীন্দ্র ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অধ্যাপক আল-আল মামুন বলেন, হামলার আগে দুই পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিচ্ছিল। অথচ গত দুই দিন প্রশাসন প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল, যার সুযোগে সহিংসতা ঘটেছে। অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, তিন দশকের শিক্ষকতায় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা তিনি দেখেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও তিনি জানান।
সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে তা দখলের চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির সভাপতিরা এসব হামলায় মদদ দিচ্ছেন। বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল জানান, প্রতিবাদে আজ ক্লাস বর্জন করা হয়েছে এবং দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হবে। শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি বলেন, হামলার স্পষ্ট ফুটেজ আছে; আজকের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনের পদত্যাগ করা উচিত।
মানববন্ধনে রাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, প্রেসক্লাব সভাপতি আশিকুল ইসলাম ও রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব।
মানববন্ধন শেষে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এর মধ্যে ফেসবুক পোস্টে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী লেখেন, তাঁদের কোনো নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলবে না। ছাত্রদল ও সাংবাদিকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টার জন্য তিনি শিবিরকে দায়ী করে নিন্দা জানান এবং ভুল বোঝাবুঝির শিকার কোনো সাংবাদিকের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
পরে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রাবি শাখার সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে পদ থেকে এবং বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিক হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ নেই।



















