মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:৪৬:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়—এটি জীবন, স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার মূল ভিত্তি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামো (UDHR, ICESCR–এর General Comment No.15 ও SDG–6) পানি-অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ৩১ ও ১৮ অনুচ্ছেদও মানুষের জীবন, মৌলিক প্রয়োজন এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ পানির নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট আজ গভীর মানবাধিকার সংকটে পরিণত হয়েছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) এসকে সেমিনার হলে বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের আয়োজনে “বরেন্দ্র অঞ্চলে পানিবৈষম্য ও মানবাধিকার: সংকট, কাঠামো ও করণীয়” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক নৃবিজ্ঞানী মো. শহিদুল ইসলাম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন—বরেন্দ্র দেশের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চল, যেখানে অনিয়ন্ত্রিত গভীর নলকূপ, দ্রুত ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস, খরা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়—সব মিলিয়ে মৌলিক মানবাধিকার হুমকির মুখে পড়ছে।
আদিবাসী কৃষানী চিচিলিয়া হেমব্রম বলেন, দূর দূরান্ত থেকে পানি আনতে গিয়ে নারীরা প্রতিদিন শারীরিক কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন। বাচ্চাদের পানি দিতে না পারার বেদনা তুলে ধরে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—“একগ্লাস পানি দিতে না পারলে বুক ভেঙে যায়।”
সুজন সভাপতি আহমেদ শফিউদ্দিন বলেন, পানি নীতি সবসময় উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়—বরেন্দ্রবাসীর বাস্তবতা এতে প্রতিফলিত হয় না। রাশেদ রিপন অভিযোগ করেন, বরেন্দ্রে পানি নিয়ে কেবল ব্যবসা হচ্ছে; হঠাৎ ৪ হাজার ৯১১ মৌজায় কৃষি পানি ব্যবহার বন্ধ করে কৃষকদের দুঃস্থ অবস্থায় ফেলা হয়েছে। রুলফাও নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, বিল-জলাধার ধ্বংস করে পুকুর খননের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে মানুষের অধিকার আরও সংকুচিত হয়েছে।
নারী নেত্রী কল্পনা রায় বলেন, পানি সংগ্রহে নারীদের কষ্ট ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী মত দেন—বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি ও কৃষি পরিকল্পনা করতে হলে স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে; হুটহাট সিদ্ধান্ত কার্যকর সমাধান নয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ বলেন, বরেন্দ্রে পানি শুধু জীবন-জীবিকা নয়—এটি সংস্কৃতি, রাজনীতি ও শস্য বৈচিত্র্যের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। তাই পানি সংকট সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।
সংলাপে পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী ওয়াসা, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন— শাইখ তাসনীম জামাল (বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম), আতিকুর রহমান (ইয়্যাস), সম্রাট রায়হান (সমাজকল্যাণ সংস্থা), জুলফিকার আলী হায়দার (ওয়াটার ইয়ুথ পার্লামেন্ট)সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি।

















