নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাত আটটা। নামাজ শেষে বাড়ির দিকে হাঁটছিলেন জসীম উদ্দিন। কায়েমপুরের চেনা গলিতে পা রাখতেই সামনে এসে দাঁড়াল কয়েকজন। মুখে একটাই কথা — "আপা আইতাছে। ডিসেম্বরের আগেই তোরে মাইরা ফেলমু।" হুমকি শেষ হতে না হতেই শুরু হলো মারধর। তারপর ছুরি।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এই হামলার শিকার হন জামায়াতে ইসলামীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জসীম উদ্দিন। অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহাদাৎসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
জসীম উদ্দিন জানান, শাহাদাৎসহ এই দলটি সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই তাকে নজরে রাখা শুরু হয়।
হামলার রাতে শাহাদাৎ সরাসরি বলেন — এমপি আল আমিন ও জামায়াত আমির আবদুল জব্বারের কারণেই তাদের গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। সেই রাগ মেটাতেই এই হামলা।
প্রথম হামলায় সুইচ গিয়ার দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একই স্থানে আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এবার ছুরিকাঘাত। ফের স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে কী হতো — সেটা ভাবলেই শিউরে উঠছেন এলাকাবাসী।
শেষপর্যন্ত আহত জসীম উদ্দিনকে খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি কায়েমপুর মাদবর বাড়ির আব্দুর রহমানের ছেলে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহম্মদ নামে একজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই — 'ডিসেম্বরে আপা আসলে' ঠিক কী ঘটবে? এই হুমকি কি শুধু রাগের কথা, নাকি সংগঠিত কোনো পরিকল্পনার ইঙ্গিত? উত্তর মিলবে সময়ের সাথে।
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com