নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মেডিকেল সেন্টারের এক টেকনিক্যাল অফিসারের বিরুদ্ধে বাকি টাকা পরিশোধ না করা, দোকানদারকে মারধর এবং স্বর্ণের চেই ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা হলেন মেডিকেল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের টেকনিক্যাল অফিসার অমিত কুমার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কুমারপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ছাত্রজীবন থেকেই তার এমন অভ্যাস চলে আসছে, যা সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন হয়নি।
ভুক্তভোগী দোকানদার মো. রিপন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অমিত কুমার তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকার মালামাল বাকিতে নেন এবং এক মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি টাকা পরিশোধ না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
তিনি আরও জানান, গত ৩১ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে দোকানের সামনে অভিযুক্তকে দেখে পাওনা টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে অমিত কুমার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন, এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা।
ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মিঠু বলেন, দোকানদার পাওনা টাকা চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। পরে স্থানীয় দোকানদার, ক্রেতা ও পথচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া করে এবং গণপিটুনি দিয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার এবং বোয়ালিয়া থানা পূর্বের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে এলাকায় বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি, টাকা আত্মসাৎ, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। তাদের দাবি, মেধা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাবের জোরেই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চাকরি বাগিয়ে নেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে তিনি নিয়মিত অফিস না করেই বেতন উত্তোলন করেছেন। তবে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে বর্তমানে তিনি কিছুটা নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোকানদার মো. রিপন বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি তার পাওনা টাকা উদ্ধার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অমিত কুমারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com