নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর রাস্তায় এখন এক অদ্ভুত নিয়ম চলছে — নিয়মটা হলো, কোনো নিয়ম নেই।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল মানে না, বেশিরভাগের কাগজপত্র নেই, মোড়ে মোড়ে যাত্রী তোলার নামে রাস্তা দখল করে জ্যাম বাধায় — এসব অভিযোগ তো পুরনো। কিন্তু এর মধ্যেই নতুন বিপদ যোগ হয়েছে। এবার চালকেরা নিজেরাই সিটি কর্পোরেশনকে পাশ কাটিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে বসেছেন। আর সেই "বাড়তি ভাড়ার যুক্তি" ছড়াচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় — কারেন্টের দাম বেড়েছে, ব্যাটারির দাম বেড়েছে, এমনকি সিটি কর্পোরেশন নাকি ভাড়া বাড়িয়েছে — এই মর্মে ভুয়া ছবি বানিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে — এমন কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে তারা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে এবং সরেজমিনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
রাসিকের তথ্য বলছে, নগরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিকশা আছে ৮,৯৭০টি এবং চার্জার রিকশা ৫,৮১৯টি। কিন্তু বাস্তবে রাস্তায় চলছে ৩০ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত যান। অর্থাৎ হাজার হাজার গাড়ি চলছে কোনো বৈধ কাগজ ছাড়াই। এমনকি একই লাইসেন্সে দুটো গাড়ি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ট্রাফিক বিভাগ ও রাসিক মিলে লাল ও সবুজ রঙের অটোর জন্য চলাচলের সময় ভাগ করে দিয়েছিল — কিন্তু সেই নিয়মও কাগজেই রয়ে গেছে। বেপরোয়া গতি আর ব্রেক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে নগরীতে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে এখন পর্যন্ত ১৫ জনেরও বেশি অটোচালককে মারধর করেছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা — তারপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।
কুমারপাড়ার বাসিন্দা বিশাল বলেন, রাজশাহী শিক্ষানগরী। অটোতে বেশিরভাগ যাত্রীই ছাত্রছাত্রী। তাদের কাছ থেকে জোর করে বেশি ভাড়া নেওয়া এক ধরনের জুলুম।
স্টেশন এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম জানান, আগে থেকেই ঝড়-বৃষ্টি, রাত ১১টা বা ভোরবেলা সহ দিবস গুলিতে— যেকোনো বাহানায় বেশি ভাড়া নেওয়ার চল ছিল। ট্রেন-বাস থেকে যাত্রী নামলে ইচ্ছাকৃতভাবে রিজার্ভ নিতে বাধ্য করা হয়। আর এখন দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে নিজেরা ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ নূর আলম সিদ্দিকী করে বলেন, বর্তমানে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা চক্রের মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধি করে জনগণের ভোগান্তি বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রাসিকের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিককে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে — কোনো যাত্রী বা নগরবাসী এ ধরনের অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাটারিচালিত সমস্ত গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করা হবে।
রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ বলেন, নগরবাসীর স্বার্থে অটোরিকশার ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিশৃঙ্খলার মাশুল দিচ্ছে দুই পক্ষ — একদিকে রাসিক হারাচ্ছে বৈধ রাজস্ব, অন্যদিকে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিদিন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী যাত্রী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
চেকপোস্ট বসছে, গণবিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে, ট্রাফিক মাঠে নেমেছে — কিন্তু ৩০ হাজার অটোর সিন্ডিকেট আদৌ ভাঙবে কিনা, সেটাই এখন রাজশাহীর লাখো নগরবাসীর প্রশ্ন।
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com