নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রথ ঘুরছে, ঢাক বাজছে, শঙ্খধ্বনি ভাসছে বাতাসে — কিন্তু এই আনন্দের চাদরের নিচে রাজশাহীর রথের মেলা ঘিরে চলছে অন্য এক বাস্তবতা। সরেজমিনে ও একাধিক দোকানদার-এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলা বসাতে গেলে প্রতিটি দোকানকে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা — আর তার প্রভাব গিয়ে পড়ছে সরাসরি সাধারণ ক্রেতার পাতে ও ঘরে।
স্বচ্ছ টাওয়ার মোড়: শুরুতেই সিন্ডিকেটের থাবা
অভিযোগ অনুযায়ী, মেলার শুরু স্বচ্ছ টাওয়ার মোড় থেকেই চলছে এনসিপি নেতা ডলার রহমানের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি। তার ভাই বিশাল ও রাসেল, এবং সহযোগী বুদ্ধ, অন্তু, তারেক ও শাওন মিলে দখলে নিয়েছেন বেশিরভাগ জিলাপির দোকান, যেখানে দোকানপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকা। অন্যান্য দোকান থেকে আদায় হচ্ছে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা। এর বাইরে পুরো মাঠ থেকে কাঠের দোকানগুলোর কাছ থেকে আনুমানিক ৩ লাখ টাকা তুলছেন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ সরবরাহকারী/ঠিকাদার জাকির হোসেন, যার প্রতিষ্ঠানের নাম সাইমন ফয়ি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
সাগরপাড়া: একই কায়দায় ভিন্ন নাম
সাগরপাড়া লালনের দোকানের পাশের মাঠে খাট-পালং দোকান থেকে চাঁদা তুলছেন সালাউদ্দিন ও তার ছোট ভাই বলে অভিযোগ। পাশের এলাকায় কখনো ঈদগা কমিটি, কখনো মসজিদ কমিটি, কখনো অসুস্থ ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে মাঠ ও রাস্তার দুই পাশের দোকান থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে রোকন, তার ভাই কথিত যুবদল নেতা রনি এবং তাদের 'মাস্টারমাইন্ড' এলাকার একে প্রফেসর অপুর বিরুদ্ধে। শুধু সেই মাঠ নয় মসজিদ এর সামনে থেকে আদিবাসী হোস্টেল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের দোকান গুলি থেকেও নিচ্ছে টাকা।
মাইক্রো স্ট্যান্ড ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড
মাইক্রো স্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার দুই পাশের দোকান থেকে টাকা তোলার অভিযোগ খোকন ও তার সহযোগী পিটুর বিরুদ্ধে। এর পরের অংশে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু টোকাই টাকা তুলছে বলে জানা গেলেও ভয়ে তাদের নাম বলতে রাজি হননি দোকানদাররা। সাগরপাড়া বটতলা মোড়ের এক জিলাপি দোকানদার জানান, তাকে বসিয়েছেন বেলদারপাড়ার সাব্বির ও তার সহযোগী সাগরপাড়ার সেতু — চাহিদা বেশি হলেও তিনি মেলা শেষে ১০ হাজার টাকা দিয়ে অনুরোধ করার কথা ভাবছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ বিষয়ে ডলার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার ভাই বিশালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পাশের এলাকার আরেক বিশালের নামে চাপিয়ে দেন , যার কোন তথ্য প্রমান সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। তবে রাসেল পুরোপুরি অস্বীকার না করে জানান, পদ্মা কমিটি সেন্টারের সামনে একটি জিলাপির দোকান তিনি ও ডলার মিলে দিয়েছেন, বাকিরা আলাদা। যদিও একাধিক দোকানদার ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, এরা সবাই একই সিন্ডিকেটের অংশ।
ঠিকাদার জাকির হোসেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। সালাউদ্দিনকে ফোনে বিষয়টি উল্লেখ করার পর তিনি লাইন কেটে দেন, এরপর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোকন ও পিটু অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যদের মাধ্যমে বিষয়টি 'ম্যানেজ' করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঈদগা ও মসজিদ কমিটির নাম ব্যবহারকারী রোকনের চাঁদা নেওয়ার স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে গোয়েন্দা সংস্থাও।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, "এই বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দা ও পুলিশ তদন্ত করছে, এছড়াও কেউ অভিযোগ দিলে সেটা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেলার রঙিন বেলুন আর গরম জিলাপির গন্ধের আড়ালে যে সিন্ডিকেট সক্রিয়, তার লাগাম কবে টানা হবে — সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সাগরপাড়া থেকে স্বচ্ছ টাওয়ার মোড় পর্যন্ত পুরো এলাকায়। তদন্ত শেষ হলে কী বেরিয়ে আসে, নজর থাকবে তার দিকেই।
সম্পাদক: ও প্রকাশক : মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ডিএম ভবন(৪র্থ তলা), অলকার মোড়,বোয়ালিয়া ,রাজশাহী
ফোন নাম্বার- 01717-725868
ইমেইল: sokalerbulletin@gmail.com
www.sokalerbulletin.com