মো. শামীউল আলীম শাওন
রাজশাহী, ২৫ জুলাই ২০২৫: পদ্মাপাড়ের শান্ত সবুজ নগরী রাজশাহী, তার পরিচ্ছন্নতা, সুপরিকল্পিত জীবনযাত্রা এবং শিক্ষাঙ্গনের ঐতিহ্যের জন্য দেশজুড়ে এক অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ‘ক্লিন সিটি’ ও ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে এর খ্যাতি আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুপ্রতিষ্ঠিত। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর সড়ক সম্প্রসারণ, আধুনিক হাউজিং প্রকল্প, বনলতা বাণিজ্যিক এলাকার মতো যুগান্তকারী উন্নয়ন উদ্যোগগুলো এই পরিচয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রুয়েট বাইপাস সড়কে পানি, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ লাইন ভূগর্ভস্থ করার মতো দূরদর্শী পরিকল্পনাগুলো নগরীর আধুনিকায়নে আরডিএ’র প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ। আরডিএ চেয়ারম্যান এস.এম. তুহিনুর আলম যেমনটা বলছেন, পরিবেশ ও নাগরিক সেবা তাদের প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রাধিকার। নিঃসন্দেহে, এই অর্জনগুলো নগরীর ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।
তবে, এই দৃশ্যমান সফলতার গভীরে, আমাদের গৌরব ‘ক্লিন সিটি’র বুকে লুকিয়ে আছে দুটি নীরব, অদৃশ্য ক্ষত – বিদ্যুতের তার ও ক্যাবলের এক বেপরোয়া জটলা এবং ই-বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান বিষাক্ত স্তূপ। এই দুই চ্যালেঞ্জ রাজশাহীর ‘ক্লিন সিটি’ তকমাকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করছে না, বরং জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং নগরীর সামগ্রিক সম্ভাবনাকে ভয়ংকরভাবে অবরোধ করছে।
আকাশের নিচে এক বিপদসংকুল জাল: তারের জঞ্জাল এক ভয়াল বাস্তবতা
রাজশাহীর আকাশে তাকালে দেখা যায় – অসংখ্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট আর কেবল টিভির তারের এক বিশাল জঞ্জাল, যা শহরের আকাশকে ঢেকে দিয়েছে এক জটিল মাকড়সার জালে। এই তারের জটলা কেবল প্রধান সড়ক, সাহেব বাজার, জিরোপয়েন্ট, নিউ মার্কেট, লক্ষ্মীপুর মোড়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মহানগরীর অলিগলিতেও এর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। এই জঞ্জাল কেবল দৃষ্টিকটুই নয়, এটি পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে অন্তত ৭টি বড় অগ্নিকাণ্ড এবং কয়েক ডজন ছোটখাটো দুর্ঘটনা সরাসরি তারের জটলার কারণে ঘটেছে। এর মধ্যে নিউমার্কেটে আগুনে পুড়ে ৭টি দোকান ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনা তারের জটলার ভয়াবহ পরিণতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ঝুলে থাকা, জীর্ণ বা ছেঁড়া তার পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং যানবাহনের জন্য সরাসরি শারীরিক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ লাইন, ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট ক্যাবলের বিশৃঙ্খল মিশ্রণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট এবং ফলস্বরূপ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। বর্ষাকালে এই বিপদ বিশেষভাবে তীব্র হয়। সবচেয়ে বড় কথা, এই তারের জট জরুরি সেবার (যেমন, ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স) পথ বন্ধ করে দেয়, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এই তারের জট কেবল নিরাপত্তা ঝুঁকিই তৈরি করে না, এটি শহরের দৃশ্য দূষণ (Visual Pollution) হিসেবে চিহ্নিত এবং পর্যটনসহ নগরীর সার্বিক ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। নগরবাসী যখন দেখেন পরিচ্ছন্ন শহরের সৌন্দর্য তারের জঞ্জালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন এটি তাদের খারাপ লাগে। অর্থনৈতিকভাবেও এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে; বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট লাইন যখন বিচ্ছিন্ন হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে, উৎপাদন ব্যাহত হয়। নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শিরিন ইয়াসমিনও জানিয়েছেন যে, এই অবৈধ তারগুলো তাদের কাজেরও সমস্যা করছে। আরডিএ যখন ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনের কারিগরি দক্ষতা দেখাচ্ছে, তখন কেন নগরীর বাকি অংশ এই জটলার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না – এই প্রশ্ন আজ নগরবাসীর মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আধুনিকতার বিষাক্ত উপহার: ই-বর্জ্যের নীরব ঘাতক
মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজ – আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই যন্ত্রগুলো যখন অকেজো হয়ে পড়ে, তখন সেগুলো রূপান্তরিত হয় ই-বর্জ্যে, যা এক নতুন ধরনের ভয়াবহ দূষণ। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এই বর্জ্যগুলো সাধারণ আবর্জনা নয়; এগুলোতে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক ও ক্রোমিয়ামের মতো মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে।
রাজশাহীর মতো শহরে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বেশিরভাগ ই-বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে বা অনিরাপদভাবে ভাঙা হচ্ছে। এর ফলে এই বিষাক্ত উপাদানগুলো মাটি, পানি আর বাতাসের সাথে মিশে জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতি করছে – শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, কিডনি ও লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এর বিষাক্ত প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আরডিএ’র সবুজায়নের কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও, ই-বর্জ্যের এই নীরব দূষণকে মোকাবেলা করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা না থাকলে, ‘পরিবেশবান্ধব নগরী’র স্লোগান অর্থহীন হয়ে পড়বে।
আইন আছে, প্রয়োগ নেই: দায়বদ্ধতার নির্লজ্জ অভাব
আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, তারের জট এবং ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের দেশে যথেষ্ট আইন ও বিধিমালা আছে। বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৯ সালে প্রণীত ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা – সবকিছুই বিদ্যমান। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের আইনেও শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া আছে।
কিন্তু সমস্যা হলো, এই আইনগুলো শুধুই কাগজে-কলমে রয়ে গেছে, বাস্তবে এর প্রয়োগ খুবই দুর্বল। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃক ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের অতিরিক্ত ও জটলা পাকানো তার অপসারণের জন্য বারবার নোটিশ ও জরুরি আবেদন জানানো সত্ত্বেও, সম্মতির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কম। রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-ই সাঈদ খোলাখুলিভাবে জানিয়েছেন, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও অপারেটররা তারের জঞ্জাল সরাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নেসকো এই তারগুলোকে অবৈধ বললেও, তাদের অপসারণের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে, যা এক ধরনের দায়িত্বহীনতার ইঙ্গিত।
সেবাদানকারী অপারেটররা নিয়মিতভাবে খুঁটিতে নতুন তার স্থাপন করে নিয়ম লঙ্ঘন করে চলেছে। যখন পুরনো তারে ত্রুটি দেখা দেয়, তখন পরিষেবা প্রদানকারীরা সেগুলো না কেটেই নতুন তার লাগিয়ে নেয়, যার ফলে তারের জঞ্জাল দিন দিন বেড়েই চলেছে। সিটি কর্পোরেশন তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ (যেমন তার কেটে ফেলা) নিতে দ্বিধাগ্রস্ত, কারণ এতে ইন্টারনেট ও টিভি সংযোগ বন্ধ হয়ে নগরবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই কঠিন দোটানা প্রায়শই তাৎক্ষণিক, কঠোর পদক্ষেপের পরিবর্তে “ধাপে ধাপে সমাধান” এর দিকে পরিচালিত করে, যা কার্যকর প্রয়োগ ব্যবস্থার অভাব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দায়বদ্ধতার অভাবকেই প্রকট করে তোলে।
রাজশাহীর বহুমুখী সম্ভাবনা ও সমাধানের নির্ভীক পথ
রাজশাহীর উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষানগরী, রেশম শিল্পের পীঠস্থান, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। এই সম্ভাবনাগুলোকে পূর্ণতা দিতে হলে, তারের জট এবং ই-বর্জ্যের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে আর কালক্ষেপণ করা উচিত নয়। আরডিএ যখন রুয়েট বাইপাসে ভূগর্ভস্থ লাইন স্থাপনের কারিগরি দক্ষতা দেখিয়েছে, তখন কেন পুরো নগরীতে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা সম্ভব নয়?
ভূগর্ভস্থ ক্যাবলিংয়ের অসংখ্য সুবিধা রয়েছে: এটি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে, সিস্টেম লস কমায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস করে, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি করে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায়, এবং সর্বোপরি নগরীর নান্দনিকতা পুনরুদ্ধার করে, যা পর্যটন শিল্পকেও চাঙ্গা করতে পারে। নগর পরিকল্পনাবিদ, নগরবাসী এবং এমনকি কিছু ইউটিলিটি কর্মকর্তার মধ্যেও একটি শক্তিশালী ঐকমত্য রয়েছে যে, তারের জটলার সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর, টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো সমস্ত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট ক্যাবল লাইন ভূগর্ভে স্থাপন করা। আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত (সিউল, কোপেনহেগেন) দেখায় যে ভূগর্ভস্থ তার ব্যবস্থা দুর্ঘটনা ৫০% পর্যন্ত কমায় এবং সম্পত্তির মূল্য ৫-২০% পর্যন্ত বাড়ায়।
এখনই কিছু জরুরি, নির্ভীক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য:
আইনের কঠোর ও আপোষহীন প্রয়োগ: বিদ্যমান আইনগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আপোষ না করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সমন্বিত ইউটিলিটি করিডোর নীতি: যৌথ ভূগর্ভস্থ ইউটিলিটি ডাক্ট বা কন্ডুইটের জন্য একটি ব্যাপক ও বাধ্যতামূলক নীতি বাস্তবায়ন করা, যা রাসিক বা নতুন কোনো শক্তিশালী পৌর ইউটিলিটি কর্তৃপক্ষ দ্বারা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।
পর্যায়ক্রমিক ভূগর্ভস্থ ক্যাবলিংয়ের দ্রুত বাস্তবায়ন: শহরব্যাপী ভূগর্ভস্থকরণের মতো বড় প্রকল্পগুলোকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ও সহযোগিতা: রাসিক, নেসকো, বিটিসিএল, আইএসপি এবং ক্যাবল অপারেটরদের মধ্যে একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক সমন্বিত শাসন কাঠামো তৈরি করা অপরিহার্য। ব্যর্থতার জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।
জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ: ঝুঁকি ও সুবিধা সম্পর্কে নাগরিকদের শিক্ষিত করা এবং তার সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য ও কার্যকর অভিযোগ চ্যানেল তৈরি করা।
আর্থিক মডেল ও বিনিয়োগ: ভূগর্ভস্থকরণের অর্থনৈতিক সুবিধা বিশ্লেষণ করা, এবং সরকারি বরাদ্দ, ইউটিলিটি কোম্পানিগুলির অবদান (যারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে), PPP মডেল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংক থেকে তহবিল অনুসন্ধান করা। অপারেটরদেরও যৌথ ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে আর্থিকভাবে অবদান রাখতে বাধ্য করতে হবে।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা: পরিবেশ অধিদপ্তরকে তাদের বিধিমালা অনুযায়ী উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (EPR) কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে এবং রিসাইক্লিং প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে হবে।
উপসংহার: আর কোনো অজুহাত নয়, এখনই চাই কার্যকর পদক্ষেপ!
রাজশাহী ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে এক ধাপ পেরিয়েছে। এখন সময় এসেছে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার—যেখানে শহরের সৌন্দর্য শুধু ওপর থেকেই নয়, তারের জট আর ই-বর্জ্যের বিষাক্ত প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে মাটির নিচেও সুরক্ষিত থাকবে। একটি তারবিহীন এবং বিষমুক্ত রাজশাহী হবে সত্যিকারের স্মার্ট ও টেকসই শহর, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করবে।
আর কোনো অজুহাত নয়! আর কোনো প্রাণহানি নয়! আর কোনো অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত ক্ষতি নয়! কেবল কথার ফুলঝুরি নয়, আমরা এখন কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই! যারা এই কাজের দায়িত্বে আছেন, তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা তাদের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক এবং দেশপ্রেমিক। আইনকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং জননিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সবার ওপরে রাখতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও সচিব মহোদয়দের কাছে আমাদের জোর দাবি, এই গুরুতর জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য ও নগর উন্নয়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক। দ্রুত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তারবিহীন ও বিষমুক্ত রাজশাহী গড়ার কাজ এখনই শুরু করা হোক। এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে না পারলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই! এক মুহূর্তও দেরি করার সুযোগ নেই!
মো. শামীউল আলীম শাওন
লেখক ও সমাজ উন্নয়নকর্মী
এম.এ (বাংলা), বি.এ (অনার্স), পি.জি.ডি-ইন-আইটি (রাবি)
সভাপতি, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস, রাজশাহী।
সভাপতি, ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়, রাজশাহী।
মুঠোফোন : ০১৭৯৪৮৯৪৩১৫ ॥ তরিৎ ডাক : behrshamiul@gmail.com



















