নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং উন্নয়নই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। ঝগড়া, বিবাদ বা সমালোচনা নয়; আমরা সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। দেশকে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার পথে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর সশরীরে রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুরো শহর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান দেশ গড়েছেন, খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন। এই দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমরা কোনো সামাজিক বিভাজন চাই না। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করুন। প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হতে হবে আইন অনুযায়ী।
তারেক রহমান রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের ১০০০ কোটি টাকার থমকে যাওয়া পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, কৃষক হাসলে হাসবে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে পর্যাপ্ত পানি নেই। নদীতে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ হাতে নেব এবং পুরোনো পরিকল্পনাগুলো নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে।

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের জন্য বিশেষায়িত সহায়তা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার নির্মাণ করা হবে। এতে চাষীরা মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তি পাবেন এবং নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।” পদ্মা নদীর ওপর নতুন ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন, যা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষা ও যুবক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী একটি শিক্ষানগরী। এখানে অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ থাকলেও যথাযথ কর্মসংস্থান নেই। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া। আমরা আইটি পার্ক সচল করব, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করব এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ব। শিক্ষা ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে শহরের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং যুবকদের আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করা হবে।
জনগণের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারে এই সুবিধা পৌঁছে দিয়ে আমরা প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করব। ধানের শীষ প্রতীক শুধু একটি প্রতীক নয়; এটি কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি অন্য কোনো পথে, তা জনগণ নির্ধারণ করবে। ভোটের মাধ্যমে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের ভবিষ্যৎ। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সকল নেতাকর্মী সতর্ক থাকুন। তিনি আবারও নিশ্চয়তা দেন, নির্বাচনে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত হবে।

জনসভা শুরুতে মঞ্চে ওঠার সময় সমাবেশস্থল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, মহানগর সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি ১৩ জন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীকে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করান এবং নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন রাজশাহীর প্রতিটি ঘরে ঘরে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে।
সমাবেশ শেষে তারেক রহমান সড়কপথে নওগাঁর জনসভায় অংশ নেবেন এবং সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে আরও একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর শুক্রবার রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও ঈদগাহ মাঠের জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনি সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।



















