অপরাধ - দূর্নীতি

রাজশাহীর হিমাগারে তরুণ-নারী-কিশোরীর শরীরে সেফটি পিন ফুটিয়ে নির্যাতন

  মো: সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ৭ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:২২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের হিমাগারে এক তরুণ, নারী ও কিশোরীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যানের দুই মেয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর শরীরে সেফটি পিন ফুটিয়েছে এবং চড়-থাপ্পড় মেরেছে।

 

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়া এলাকায় সরকার কোল্ড স্টোরেজের অফিসকক্ষে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অফিসকক্ষে ভাঙচুর চালান এবং অভিযুক্তদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় এয়ারপোর্ট থানা-পুলিশ তিনজনকে আটক করে নিয়ে যায়।

 

আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন—এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী (২৭), তার খালাতো বোন (৩০) ও এক কিশোরী (১৩)। নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনজনকে অফিসে ডেকে নিয়ে লাঠি, বাঁশ, হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয় এবং সেফটি পিন দিয়ে শরীর ফুটিয়ে দেওয়া হয়।

 

চিকিৎসাধীন নারী জানান, মোহাম্মদ আলী সরকারের সঙ্গে তাদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার ছেলে-মেয়েরা এ সম্পর্ক ভালোভাবে নিতেন না। তারা সন্দেহ করতেন, ওই নারীর সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যানের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সন্দেহ থেকেই এদিন সকালে ফোন করে ডেকে এনে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।

 

ঘটনার পর দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই নারী খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন, তার কান দিয়ে রক্ত পড়ছিল। আহত মেডিকেল শিক্ষার্থীর দুই হাতে জখম ও পিঠে আঘাতের দাগ ছিল। কিশোরীর ঠোঁট থেকে রক্ত পড়ছিল। কিশোরী অভিযোগ করে, চেয়ারম্যানের দুই মেয়ে তার শরীরে বারবার সেফটি পিন ফুটিয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, বেলা ১১টা থেকে জনতা অভিযুক্ত আহসান উদ্দিন সরকার জিকো (৪৫), আখি (৩৫) ও হাবিবাকে (৪০) অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা গ্রেপ্তারের দাবি জানাতে থাকেন। পুলিশ আশঙ্কা করছিল, বাইরে আনা হলে জনতা হামলা চালাতে পারে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে দুপুরে জনতা অফিসের সিসি ক্যামেরা ও জানালা ভাঙচুর করেন। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, “তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।”

আরও খবর

Sponsered content