মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ২০ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৩১:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কাজলা ক্যান্টিন থেকে রামদা, হাতুড়ি, পিস্তল ঠেকিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সহ দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সংঘবদ্ধ হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের মারধর করে বিভিন্ন স্থান থেকে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগীরা হলেন—ফাইনান্স বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ফারাবী, যিনি আগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে; এবং একই বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী বকশী। এছাড়া নাট্যকলা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মিনহাজ খাবার নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন এবং রামদার কোপে গুরুতর জখম হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রামেকে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে ৬টি সেলাই লেগেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ারত অবস্থায় ১০–১২ জন হেলমেটধারী দুর্বৃত্ত হঠাৎ হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল রামদা, হাতুরি ও পিস্তল। তারা ফারাবী ও বকশীকে রামদা ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যায়। মণ্ডলের মোড় এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ফারাবীকে এবং হবিবুর হলের সামনে থেকে বকশীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে পাঠানো হয়।

আহত শিক্ষার্থী বকশী বলেন, কমপক্ষে ১০টা বাইক ছিলো। সবাই হেলমেট পরা। আমাদের বাইকে তুলে নিতে চাইছিলো, আমি লাফ দিয়ে নেমে যাই। পরে আমাকে মারতে মারতে রিকশায় তোলে। অক্ট্রয় মোড়ের ভেতরে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে বসায়। কিছুক্ষণ পর কারও ফোন আসে—ওরা বলে, ‘আসলটা পেয়ে গেছি, এরে ছাইড়া দে।’ তারপর আমাকে ৩০ মিনিট ঘুরিয়ে ছেড়ে দেয়। তাদের কাউকে চিনিনা।
রাবি প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা খবর পেয়েছি ফারাবীর ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা হেলমেট পরা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে মতিহার থানাকে বিষয়টি জানাই।
মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন,দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি কারা হামলা করেছে। জনি নামে একজনের নাম শোনা গেছে। তদন্ত করে তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

















