মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ২৯ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:০৫:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন কুমারপাড়া এলাকার এক কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষকতার আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম আনিসুজ্জামান মিলু (৬০)। তিনি বর্তমানে তানোর মহিলা কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানা যায়, আনিসুজ্জামান মিলু বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়েছে বর্তমানে মাদক কারবারই করে বিএনপির সহ তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনেরও নেতাকর্মীর ছত্রছায়ায় এখনো প্রভাব দেখিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও পারিবারিক অবস্থান ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক কারবারে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য—তার বড় ভাই দেশের একজন উচ্চ আদালতের বিচারক হওয়ায় প্রথমদিকে কেউ তাকে সহজে সন্দেহ করেননি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও তার ভাইদের সহযোগী নেতাকর্মীদের ইয়াবা সাপ্লাই হিসেবে কাজ করতেন মিলু।
তবে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, মাদকসেবনের কারণে মিলুর সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের সম্পর্ক বহু বছর ধরেই বিচ্ছিন্ন।
একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) অভিযানে আনিসুজ্জামান মিলু গ্রেপ্তার হন। মামলায় ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের অভিযোগ আনা হয়। তিনি ওই মামলায় প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি দ্রুত জামিন পেতে সক্ষম হন।
তানোর মহিলা কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,উনি নিয়মিত ক্লাস নেন না। অন্য একজন শিক্ষক তার ক্লাস নেন, কিন্তু বেতন উনি নিয়মিত তুলে নেন।
এই বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কুমারপাড়া এলাকার এক প্রতিবেশী নারী জানান,রাত-বিরাতে তার বাসায় বিভিন্ন লোকজনের যাতায়াত থাকে। আগে ভাবতাম ছাত্ররা পড়তে আসে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভিন্ন কিছু।
এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিষয়টি নিয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “যদি আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি থাকে, তাহলে হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার অবস্থানও নজরদারিতে রাখা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনিসুজ্জামান মিলুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

















