মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ২৯ নভেম্বর ২০২৫ , ৬:৫০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ রাজশাহীর অন্যতম প্রবেশদ্বার তালাইমারী মোড়ে নির্মিত আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনটি উদ্দেশ্য বহির্ভূতভাবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার “জনবিরোধী সিদ্ধান্ত” বাতিলের দাবিতে কয়েক দিন আগে আরডিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন রাজশাহীর সুধী সমাজ, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনসহ রাজনৈতিক–অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা এবং দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় নাগরিক সমাজ মানববন্ধনে দাঁড়াতে বাধ্য হয় বলে জানান আয়োজকরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর ২০২৫) বেলা সাড়ে ১১টায় ভবনটির মূল ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের আহ্বায়ক, লেখক ও গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী এবং সঞ্চালনা করেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ, আইনজীবী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, পরিবেশবাদী সংগঠনসহ রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই–৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী অভিযোগ করেন, আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটি মূলত মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থান, বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস এবং সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা উদ্দেশ্যভ্রষ্টভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) একটি “জনবিরোধী সিদ্ধান্তের” মাধ্যমে ভবনটি লিজ দিয়েছে, যা নগরবাসীর প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত।
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান বলেন, তালাইমারী মোড় ও মতিহার চত্বর ছিল জুলাই অভ্যুত্থান আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, রাজশাহী কলেজ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ এখান থেকেই আন্দোলন পরিচালনা করতেন। তাই ভবনটিকে ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সভাপতি শামীউল আলীম শাওন মানববন্ধনে বলেন, ভবনটিকে পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তর করতে হবে। এখানে এম্পিথিয়েটার, মুক্তমঞ্চ, নাট্যশালা, লাইব্রেরি, আর্ট গ্যালারি, মিউজিয়াম, গাড়ি পার্কিংসহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এতে নগরবাসীর মানসিক বিকাশ যেমন ঘটবে, তেমনি ছাত্রসমাজ ও নতুন প্রজন্ম দেশের ইতিহাস ও শেকড় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।
এছাড়া অন্যান্য বক্তারা বলেন, ভবনটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়ার জন্য নির্মিত হয়নি। তাই বর্তমানে যারা ব্যবহার করছেন তাদের নগরের অন্যত্র স্থানান্তরের আহ্বান জানান তারা। মানববন্ধনে সতর্ক করে বলা হয়—অবিলম্বে এই “জনবিরোধী লিজ” বাতিল করে ভবনটিকে ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র’ হিসেবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ না নিলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তালাইমারী মোড় রাজশাহীর আন্দোলন-সংগ্রামের অন্যতম প্রতীকী স্থান; তাই এখানকার ভবনটি দেশের ইতিহাস, বরেন্দ্র ঐতিহ্য এবং জুলাই অভ্যুত্থানের দলিল হিসেবে নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
উত্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হোসেন আলী পিয়ারা, নারী নেত্রী ঈশিতা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু, গণঅধিকার পরিষদ রাজশাহীর যুগ্ম সদস্য সচিব মো. রানা সহ আরও অনেকে।

















