নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীতে দৈনিক সকালের বুলেটিন-এ অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পরপরই তৎপর হয়ে উঠেছে আরএমপি ডিবি পুলিশ। সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে নেমে ডিবি পুলিশ হাতে নাতে আটক করেছে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মূল হোতাদের একজন নুর আলীকে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চবটি থেকে কেঁদুর মোড় নদীর ধারের এলাকাজুড়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় ফাঁড়ি “ম্যানেজ” করে তারা আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একাধিকবার তথ্য দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ফাঁড়ি নীরব ভূমিকা পালন করায় অবাধে চলতে থাকে মাদকের রমরমা কারবার।
এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে ১৪ জানুয়ারি দৈনিক সকালের বুলেটিনে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সরাসরি আরএমপি ডিবি পুলিশের নজরে আনা হয়। এরপর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ চক্রের অন্যতম মূল হোতা নুর আলীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
আরএমপি সূত্র জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে পরিচালিত ২টি অভিযানে মোট ১৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো: তুষার হোসেন (২৮) ও মো: নুর আলী (২৮)। তুষার রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার গুড়িপাড়া এলাকার মৃত রুহুল আমিন ভিকুর ছেলে এবং নুর আলী বোয়ালিয়া থানার খরবোনা নদীর ধার এলাকার মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন বোসপাড়া ফাঁড়ির আওতাধীন খরবোনা এলাকায় প্রকাশ্যে চলছিল মাদক বিক্রি। এলাকাবাসীর অভিযোগ—সাব্বির, ডালিম, তার ভাই বাচ্চু, নুর আলী ও তার ভাই আলী এবং সেলিনা নামের কয়েকজন মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। এদের প্রত্যেকের নামেই রয়েছে একাধিক মাদক মামলা।
অভিযোগ রয়েছে, সাব্বির একটি চায়ের দোকানের আড়ালে বেতনভুক্ত কর্মচারী রেখে ইয়াবা বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতেন। প্রকাশ্যে এই কর্মকাণ্ড চললেও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় এলাকাজুড়ে বেড়ে যায় মাদক কারবারের বিস্তার।
ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের পর মাদক কারবারিরা সাময়িক সতর্ক হলেও তাদের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আরএমপি ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযানের পর তারা হয়তো কিছুটা সতর্ক থাকবে, তবে আমাদের টিমের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি বুঝে নতুন পরিকল্পনায় বাকি আসামিদেরও আটক করা হবে। আরএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশ—মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং তা চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত নুর আলী এই চক্রের ছয় জন মূল হোতার একজন। বাকি দুই হোতা আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে এবং অপর তিন জন এখনো সক্রিয় আছে।
এদিকে এলাকাবাসী আশা করছেন, ধারাবাহিক অভিযান চলমান থাকলে খরবোনা ও আশপাশের এলাকা দ্রুত মাদকমুক্ত হবে এবং তরুণ সমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।



















