রাজশাহীর জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সকালের বুলেটিন – দেশ ও জনগণের নিরপেক্ষ গণমাধ্যম
রবিবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. উত্তরবঙ্গ
  6. কৃষি
  7. খেলাধুলা
  8. জাতীয়
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. দুর্ঘটনা
  11. দুর্নীতি অনুসন্ধান
  12. ফটো গ্যালারি
  13. বাণিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বুলেটিন স্পেশাল

বরেন্দ্র ভূমিতে আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন

প্রতিবেদক
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন:

এবার বরেন্দ্র ভূমি রাজশাহীতে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারেও চাঙ্গা আলুর দাম। এতে হাসি ফুটেছে বরেন্দ্রের ক্ষুদ্র আলু চাষি কৃষকদের মুখে।

 

আলু চাষি কৃষকরা বলছেন, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়ায়

এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সার কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় খরচও একটু বেশি হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় আলুর বড় ধরনের কোন রোগ বালাই হয়নি। তবে আলুর বর্তমান বাজার দর থাকায় লোকসান গুনতে হবে না। আলুর দাম কমলে কৃষকের মাথায় হাত পড়তো। এবার প্রতি বছরের তুলোনা আলুর উত্তোলনকালের বাজার দর ভালো আছে। এতে খুশি আলু চাষি কৃষকরা ।

 

মাঠ পয্যায়ের কৃষি অফিসার ও আলু চাষিরা বলছেন, প্রতি বছরেই অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের আলু বীজ রোপণ মৌসুম শুরু হয়। এবারের মৌসুমেও তাই হয়েছে। প্রায় আড়াই মাসের (৬৫-৭০ দিন) আগাম জাতের এ আলুর ফলন হয় ৪৫-৫০ মণ প্রতিবিঘা জমিতে। তারপর আগাম জাতের এই আলু জমি থেকে উত্তোলন করে হাটে ও বাজারে বিক্রি শুরু হয়। আমন ধান কেটে নামলা জাতের (পরে লাগানো) আলুর উৎপাদন বিঘা প্রতি ৮০ মণ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। দাম ভালো পাওয়ায় আগাম জাতের আলুতে কৃষককে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আলুর চাষ হয়েছে ৩৪ হাজার ৯শ ৫৫ হেক্টর জমিতে। আর গত বছর আলুর চাষ হয়েছিল ৩৬ হাজার ৬৫১ হেক্টর জমিতে। তবে গত বছরের তুলনায় এই বছর আলুর চাষ ১ হাজার ৬৯৬ হেক্টর কমেছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ২৬ হাজার ২১৩ মেট্রিক টন। রাজশাহীতে চাহিদার কয়েকগুণ আলু উৎপাদন হয়। এ কারণে যোগানে তেমন কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি দপ্তর।

 

তানোর উপজেলার চাঁনপুর এলাকার কৃষক আক্কাস আলী জানান, তার নিজের ১০ বিঘা জমিতে ডায়মন্ড জাতের আগাম আলুর বীজ চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৬৫ মণ। তিনি বর্তমান বাজারে ২৩ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছেন। ফলে তার বিঘাপ্রতি লাভ পাচ্ছেন ২০-২৫ হাজার টাকা।

আলু চাষি কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘায় আলু উৎপাদনের খরচ বাদ দিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে যে দামে বিক্রি হয়েছে তাতে গড়ে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এই অঞ্চলের কৃষকরা ৫২ টাকা কেজি দরেও আলু বিক্রি করেছেন। এখন প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ২৩ টাকা দরে বিক্রি করেও ভালো লাভ থাকছে।

 

খোঁজ নিয়ে জেলার পবা, বাগমারা ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জানা গেছে, ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আলু তোলা দিনমজুর , চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে জমি থেকে আলু তোলাকে কেন্দ্র করে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দিনমজুরিতে কাজের সুযোগ হয়েছে।

তানোর পৌরসভার চাঁনপুর এলাকার নিচ বিলের কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলুর উৎপাদনের খরচ বাদ দিলে লাভ থাকবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতে এই অঞ্চলের কৃষকরা ৫০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। এখন প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। প্রথম দিকে জমি থেকে আলু আগাম তোলায় উৎপাদন কম হয়েছিল। তবে দাম বেশি হওয়ায় তাতে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে আলুর দাম কম বলছেন তারা। গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমে আলু উৎপাদনের খরচ বেড়েছে অনেক বেশি।

 

বাগমারার শুগুনা এলাকার কৃষক হযরত জানান, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় আলু পেয়েছেন ৫০ মণ। তবে এই আলু আরও ৩০ থেকে ৩৫ দিন পরে জমি থেকে তুললে ৬০ থেকে ৬৫ মণ পাওয়া যেত। সে সময় এখনকার মত দাম নাও পাওয়া যেতে পারে, তাই আগাম আলু তুলে বাজারজাত করছেন তারা।

 

কৃষক রহিদুল জানান, ৫ বিঘা জমিতে ডাইমন্ড জাতের আলু চাষ করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৬০ মণ। তার দাবি, প্রথম দিকে আলুর দাম ভালো ছিল। তখন বাজারে ৫০ থেকে ৫২ টাকা প্রতি কেজি আলু বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তাদেরকে আরও কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হয়।

 

আলু ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার ব্যবসায়ীরা আলু কিনেছেন প্রতি কেজি ২৪ টাকা দরে। আর বৃহস্পতিবার ছিল প্রতি কেজি ২৩ টাকা। আলুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে আলুর দাম কম হলে চাষিরা আলু তুলছেন না। আলু আমদানির খবরের দাম কমার বিষয়ে তিনি বলেন, আলুর দাম কমেছিল। কিন্তু দুই তিন পর থেকে আবার আলু দাম বাড়তে শুরু করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে আলু তোলা হচ্ছে সেগুলো ৭০ থেকে ৭৮ দিনের। এই আলু ওজনেও কম। আবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত বছর মৌসুমের এ সময়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছিল ১০ থেকে ১১ টাকা দরে। এ বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। তাই তুলনামূলক দাম বেশি ।

 

শুক্রবার রাজশাহী নগরী ও বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভা সদর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে খুচরায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।

 

এদিকে কৃষকরা পাইকারী আলু বিক্রি করছে ২৩ থেকে ২৪ টাকা কেজি, সেই আলু ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। তাহলে এক কেজি আলু বিক্রি করে খুচরা ব্যাবসায়ীরা ১২ টাকা থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। এতে বাজার মর্নিটারিং দরকার বলে মনে করছেন ক্রেতারা?

 

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন জানান, জেলার বাগমারা ও তানোর উপজেলার কৃষকরা আগাম আলুর চাষ বেশি করে থাকেন। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে আলুর উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু আগাম আলু চাষ করে কৃষক দামও ভালো পাচ্ছেন। এবার আশা করা যাচ্ছে- আলুতে লোকসান হবে না।

সর্বশেষ - বিনোদন

আপনার জন্য নির্বাচিত

আরএমপি’র রাজপাড়া থানার অভিযানে ৪ অপহরণকারী গ্রেপ্তার

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে রাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ৪

রাজশাহী মহানগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে আরএমপি’র মতবিনিময় সভা

কাশিয়াডাঙ্গা থানার অভিযানে দুই অপহরণকারী গ্রেপ্তার; অপহৃত উদ্ধার

থানায় অভিযোগের ১৫দিন পাড় হলেও গ্রেফতার না হওয়ায় বেপরোয়া ভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী তানভীর

কাশিয়াডাঙ্গা থানার অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

বগুড়ার সমাবেশ সফল করতে রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

খানসামায় জুয়া খেলার অপরাধে আটক ৪

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial