নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঘোষিত এ কমিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ, হতাশা ও নানা অভিযোগ সামনে আনছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী মহানগরের ৪১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশক্রমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রেরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশের পরপরই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
একাধিক ত্যাগী নেতা-কর্মীর অভিযোগ, হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিক ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত ও জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কর্মীসভায় ঘোষণা ছিল—ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবং যারা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা অপকর্মে জড়িত, তাদের স্থান দেওয়া হবে না। বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে দলীয় আরেকটি অংশ বলছে, কিছু প্রার্থী পদ না পেয়ে ক্ষোভের বশে নির্বাচিতদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াচ্ছেন। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ চাইলে কেউ কেউ তা পরে দেওয়ার কথা বলে আর যোগাযোগ করেননি বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সিনিয়র ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল হক ট্রফি নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, তিনি সার্চ (যাচাই-বাছাই) কমিটির আহ্বায়ক হলেও প্রকাশিত ওয়ার্ড কমিটি প্রণয়নে সার্চ কমিটির কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এই কমিটির ভালো-মন্দের দায়ভার তৎকালীন আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের।”
মহানগরের পরিচিত ত্যাগী নেতা ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনির পোস্টে মন্তব্য করে প্রশ্ন তোলেন—তার ওয়ার্ডের ত্যাগী কর্মীদের নাম তালিকায় নেই কেন এবং কোন বিবেচনায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই মন্তব্য মুছে ফেলা হয় বলে জানা গেছে।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হাসান অভিযোগ করেন, “আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা-হামলা খাওয়া ত্যাগীদের বাদ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক ঢোকানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগগুলো নজরে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুজনকে খসড়া হিসেবে রাখা হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের এই আংশিক কমিটি নিয়ে চলমান বিতর্কে দলীয় শৃঙ্খলা, ত্যাগীদের মূল্যায়ন এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তের ফলাফল কী আসে, তা এখন দেখার অপেক্ষা।



















