নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী মহানগর যুবদল-এর ৪১টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে আংশিক কমিটি গঠনকে ঘিরে রাজশাহীতে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নবগঠিত কমিটিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা “কলঙ্কিত কমিটি” আখ্যা দিয়ে তা বাতিল বা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার দুপুর ১২টায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। একাধিক বক্তারা বলেছেন, হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়া দেওয়া ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গুপ্ত সংঘঠন জামাত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিক ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ৪১টি ওয়ার্ড কমিটি প্রত্যাহার অথবা বিতর্কিতদের বাদ না দিলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

‘কলঙ্কিত কমিটি’ অভিযোগে রাজশাহী মহানগর যুবদলের মানববন্ধন
মানববন্ধন শেষে রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “রাজশাহী মহানগর যুবদল প্রত্যেক সদস্যের কাছে আমার প্রশ্ন… এরা কেউ কি যুবদল করে??? দলের মান ক্ষুন্নকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ধিক্কার জানাই, ছিঃ। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী মহানগর যুবদলের ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি গঠিত হওয়ার পর যুবদলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত এবং সংগঠন গতিশীল হয়েছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা কোনো উপায় না পেয়ে আজ মানববন্ধনের নাটক করেছে।”
এই পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধনে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, মানববন্ধনে শুধু যুবদল নয়—বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণও উপস্থিত ছিলেন। যুবদল করার ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই বলেও তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ব্যক্তি নিজেই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শোকজপ্রাপ্ত। তাদের ভাষ্যমতে, ২৩ জুন ২০২৩ তারিখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটি তার কাছে লিখিত জবাব চেয়েছিল।
এ বিষয়ে কয়দিন আগেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে দুই জনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাকি যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
কমিটি ঘিরে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে মহানগর যুবদলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নেতাকর্মীরা।



















