নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়সড় অভিযান চালালো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ঘটনাটি গতকাল, ৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের একটি চৌকস দল হানা দেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানাধীন নয়লাভাঙ্গা ইউনিয়নের লাভাঙ্গা মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে।
ডিএনসির টার্গেট ছিলেন মোঃ মামুনার রশিদ (৩০), পিতা মোঃ ময়েজ উদ্দিন, মাতা মোসাঃ নূরজাহান। তার টিনশেড বাড়ির উত্তর দুয়ারী শোবার ঘরে ঢুকেই তল্লাশি শুরু করেন ডিএনসির সদস্যরা। প্রথমে সাধারণ ঘর মনে হলেও, খাটের নিচে চোখ পড়তেই মেলে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য — কাপড় দিয়ে ঢাকা দুইটি আলাদা ব্যাগ।
ব্যাগ দুটো খুলতেই ডিএনসি কর্মকর্তারা হতবাক — একটিতে ৯০ বোতল, আরেকটিতে ৯০ বোতল, সব মিলিয়ে ঠিক ১৮০ বোতল কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড সিরাপ, বাণিজ্যিক নাম যার এসকাফ (ESKUF)। প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে তরল — মোট হিসেবে দাঁড়ায় ১৮ হাজার মিলিলিটার, অর্থাৎ পুরো ১৮ লিটার নেশাজাতীয় সিরাপ। সাধারণ মানুষের কাছে এটি পরিচিত কাশির ওষুধ হিসেবে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সিরাপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে অবৈধ নেশাদ্রব্য হিসেবে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে।
উদ্ধারকৃত সিরাপের পরিমাণ ও লুকানোর কায়দা দেখে ধারণা করা যায়, এটি ছোটখাটো কোনো ব্যক্তি ব্যবহারের জন্য মজুত ছিল না — বরং বিক্রি বা পাচারের উদ্দেশ্যেই মজুত রাখা হয়েছিল বলে ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে।
অভিযান শেষে ডিএনসি আসামী মামুনার রশিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ) ক্রমিক অনুযায়ী শিবগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে।



















