জাতীয়

ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়

  মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ৩০ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:১৬:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষানগরী রাজশাহীর অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ঘোষিত ‘নির্বাচনী তফসিল’ স্থগিতের দাবি উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ও চাপা উত্তেজনা।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় নগরীর ফায়ার সার্ভিস মোড়স্থ বোয়ালিয়া থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রটি বোয়ালিয়া থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার জাহিদ হাসান বরাবর জমা দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলটি সেখানে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আবেদনপত্রটি হস্তান্তর করে।

অভিযোগপত্রে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিম ছাড়াও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মনিরা ফেরদৌসী, সাবিনা ইয়াসমিন, মোহা. তরিকুল ইসলাম, সোহানা শারমিন, মো. ইস্তেকোয়ামূল এহসান, সহকারী শিক্ষক মোছা. ফারহানা আফরোজ, মোসা. সানুয়ারা খাতুন, হাবিবা খাতুন, মো. ইব্রাহীম উদ্দীন এবং ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. আব্দুল্লাহ ইবনে শরীফ স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া অভিযোগের সঙ্গে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (YASC)-এর সভাপতি শামীউল আলীম শাওনসহ ৪৯ জন শিক্ষার্থীর গণস্বাক্ষর, প্রকাশিত ভোটার তালিকার ফটোকপি এবং নির্বাচনী তফসিলের কপিও সংযুক্ত করা হয়।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, মাউশি মহাপরিচালক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক), জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া), বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে।

 

ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের বদলে তৈরি হয়েছে সন্দেহ ও ক্ষোভ।

২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলা হয়, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ১৬৪ জন, অথচ ভোটার তালিকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২২৮ জন—অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬৪ জন শিক্ষার্থীর নাম যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, “যাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাদের অনেককেই নিয়মিত শিক্ষার্থীরা চেনেন না। ভর্তি রেজিস্টার, হাজিরা খাতা ও রসিদ বই—সবখানেই সংখ্যাগত অসঙ্গতি পাওয়া যাচ্ছে।”

 

সহিংসতার আশঙ্কা

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকায় জালিয়াতির কারণে নির্বাচনে অবৈধ প্রার্থী মনোনয়ন ও কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও আশঙ্কা বিরাজ করছে। অভিযোগপত্রে সতর্ক করা হয়েছে, “এ অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিদ্যালয়ে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতা ঘটতে পারে।”

অতএব, তারা ঘোষিত ‘নির্বাচনী তফসিল’ স্থগিত ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

 

শিক্ষক প্রতিনিধি না থাকায় প্রশ্ন

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর দুইটা পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘শিক্ষক প্রতিনিধি’ হিসেবে কেউ মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেননি, যা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণেই শিক্ষক সমাজ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content