নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। তবে সেই প্রতিবাদেও ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের রেকর্ড এবং অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। উল্টো তথ্যের জবাব না দিয়ে সংবাদকর্মীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
এর আগে প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসে, পশ্চিমাঞ্চল রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মচারী হৃদয়ের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে শিবগঞ্জের মোজাহিদ নামের এক যুবককে সৈয়দপুরে ‘ডেলি লেবার’ পদে নিয়োগ পাইয়ে দেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার টাকা হৃদয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এবং বাকি ৭০ হাজার টাকা নগদে লেনদেন হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের স্টেটমেন্টে টাকা গ্রহণের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত সংবাদের পর রেলওয়ের কর্মচারী মো. সত্যব্রত ইসলাম একটি প্রতিবাদলিপি পাঠান। এতে তিনি সংবাদটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করেন এবং নিজেকে সাধারণ কর্মচারী উল্লেখ করে জানান, তার চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি প্রতিবেদককে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিবাদলিপিতে তিনি মূল বিষয়গুলো সযত্নে এড়িয়ে গেছেন। যেমন:
১. তার ব্যবহৃত নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আসা ৯০ হাজার টাকার উৎস কী?
২. মোজাহিদ কীভাবে নিয়োগ পেলেন এবং তার সঙ্গে হৃদয়ের যোগাযোগের ভিত্তি কী?
৩. নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রমাণ কী?
এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ করায় বিষয়টি ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সৈয়দপুরের জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মারুফ এবং রাজশাহীর সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পশ্চিম) মো. আনোয়ারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে মোজাহিদ কাজে যোগদান করেছেন। অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে যে কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। কর্মকর্তারা নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করলেও আর্থিক লেনদেনের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের প্রমাণ এবং নিয়োগের বাস্তবতা—এই দুইয়ের সমীকরণ মেলালে পশ্চিমাঞ্চল রেলে নিয়োগ বাণিজ্যের চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নিয়ে রেল অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।



















