নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশের পর রাজশাহীর তিনটি সংসদীয় আসনে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। ভোটের লড়াই শেষ, ফলাফল ঘোষণা—এরপর নেই কোনো প্রতিহিংসা, নেই বিদ্বেষ। বরং বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে ফুটে উঠেছে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
ভোট একদিনের, কিন্তু সম্পর্ক সারাবছরের—এই বার্তাই যেন ছড়িয়ে দিলেন রাজশাহীর নেতারা।
রাজশাহী-২ (সদর)
রাজশাহী-২ আসনে বিজয়ী হন মিজানুর রহমান মিনু। পরাজয়ের পর নিজের ফেসবুক আইডিতে অভিনন্দন জানান ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
তিনি লেখেন,বিজয়ের আসল অর্থ জনগণের আশা পূরণে আন্তরিক প্রচেষ্টা। সমালোচনা হবে, তবে তা হবে উন্নয়নের স্বার্থে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর পক্ষ থেকেও লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দ, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর এডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, সেক্রেটারী জনাব ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো: মাহবুবুল আহসান বুলবুল, অধ্যক্ষ মো: শাহাদাৎ হোসাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারী জসিম উদ্দিন সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মিজানুর রহমান মিনুকে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর)
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে বিজয়ী হন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় আজাদের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় এ শুভেচ্ছা বিনিময়। উভয় নেতা মিষ্টিমুখ করান এবং সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
অধ্যাপক আজাদ বলেন,নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তিনি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
মিলন বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য এক—জনগণের কল্যাণ।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এটিকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের উভয় নেতা মিষ্টিমুখ করান।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট)
আবু সাঈদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে ৫৫ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যক্ষ নাজমুল হক পান ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামে নাজমুল হকের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান পরাজিত প্রার্থী।
‘ছোট ভাই নাজমুলের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ’—ক্যাপশন দিয়ে ভিডিও শেয়ার করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই দৃশ্য প্রমাণ করে—রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, মূল্যবোধের।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৯টি।

বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে অভিনন্দন জানান পরাজিত প্রার্থী।
উপসংহার
রাজশাহীর এই তিনটি আসনের দৃশ্য প্রমাণ করেছে—গণতন্ত্র কেবল ভোটে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সংস্কৃতি।
ভোটের দিন উত্তেজনা থাকতেই পারে। কিন্তু ফলাফলের পর যদি প্রতিহিংসা না থেকে সহযোগিতা থাকে—তবেই উন্নয়ন সম্ভব।
মোড়ের চায়ের আড্ডা, বাজার, সামাজিক অনুষ্ঠান—সব জায়গায় তো আবার একসঙ্গেই থাকতে হবে। তাই জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতাই পারে রাজশাহীর ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করতে।



















