নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-এ “মাদকাসক্ত” এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগত নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ একাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী হাসান, তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। হামলা ঠেকাতে গিয়ে আহত হন একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম।
অভিযুক্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিবের নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ক্যাম্পাসে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এছাড়া স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছর খানেক আগে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন অলকার মোড়ে মাদক লেনদেনের সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হন “মাদকাসক্ত” নেতা হাসিব।
এছাড়াও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজি, দোকান দখল ও মাদক সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেলেও প্রতিবারই অভিযুক্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও প্রক্টর সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন এক শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে প্রহরীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় পরদিন রাতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, অভিযুক্ত নেতা পূর্ব থেকেই তাকে ফোনে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বসে থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম হাসিব দাবি করেন, তিনি অসুস্থ থাকায় ওই দিন ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা ও অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে লিখেছেন, ছাত্রদলের হাসিব নামের এক ব্যক্তি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছেন। তিনি আরও লেখেন, ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে শিক্ষার্থীদের সামনেই। সবাই শুনেছে। ভিসি স্যার বলেছেন, ‘আমাকে একটু সময় দেন, দেখেন আমি কী করি!’ আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।
ঘটনার প্রতিবাদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় প্যারিস রোডে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন।



















