নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীতে পদ্মা নদী থেকে উৎসারিত নবগঙ্গা ও বারাহী নদী দখল-দূষণ বন্ধ ও পুনঃখননের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) বারসিক রাজশাহী রিসোর্স সেন্টার সেমিনার কক্ষে গ্রিন কোয়ালিশন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বারসিক যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজশাহী নগরের অনিয়ন্ত্রিত কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নগরসংলগ্ন নদী, বিল ও জলাধার মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন ড্রেন ও নালার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল বর্জ্য স্বরমঙ্গলা, বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। একসময় প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এসব নদীর পানি এখন কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত; তলদেশে পলি ও প্লাস্টিক জমে প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং মাছসহ জলজ প্রাণীর উপস্থিতি কমে গেছে। এতে স্থানীয় জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছেন।
নগরের দূষিত পানি নিম্নাঞ্চলের সাপমারার বিল, বকমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড়বাড়িয়া বিল ও কর্ণাহার বিলে জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। জলজ উদ্ভিদ ও মাছের উৎপাদন কমে গেছে, দূষিত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করায় কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ দূষণ নিম্নপ্রবাহে নাটোরের চলন বিল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, দূষিত পানি দিয়ে চাষাবাদ চলতে থাকায় মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে এবং ফসলে ক্ষতিকর উপাদান জমার ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবাদ সম্মেলন থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— পদ্মা থেকে উৎসারিত নদীগুলো দখল-দূষণমুক্ত করা, আধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) স্থাপন, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইটিপি (ETP) নিশ্চিত করা, সরাসরি ড্রেন সংযোগ বন্ধ করা, দখল-দূষণের উৎস শনাক্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিল-নদীর পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ। পাশাপাশি সমন্বিত পুনরুদ্ধার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়।



















