নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোকুল-মথুরা এলাকায় অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ রক্ষায় একযোগে রুখে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল কৌশলে মাঠটি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যার অংশ হিসেবে মাঠটিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে প্রমাণ করতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে।
ঐতিহ্যের প্রতীক মাঠটি আজ সংকটে
গোকুল-মথুরা খেলার মাঠটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে স্থানীয়দের খেলাধুলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই মাঠে বহু প্রজন্মের শৈশব কেটেছে; চলেছে আন্তঃগ্রাম টুর্নামেন্ট, মেলা, সভা-সমাবেশ। এই মাঠকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এলাকার সামাজিক বন্ধন।
দখলের অভিযোগ ও গণপ্রতিরোধ
সম্প্রতি জানা যায়, একটি চক্র এই মাঠের একটি অংশে মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে মাঠটি দখলের পাঁয়তারা চলছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় জনগণ ‘মাঠ রক্ষা কমিটি’ গঠন করে আন্দোলনে নামে। খননযন্ত্র মাঠে প্রবেশ করলে শতাধিক নারী-পুরুষ যন্ত্রের সামনে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের দৃঢ় প্রতিরোধে দখলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নোটিশ
মাঠ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে মাঠের স্বত্ব নিয়ে সংশয় দূর করতে ভূমি সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তার নামে আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। নোটিশে ঐতিহ্যবাহী মাঠটি রক্ষা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবির মুখে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
স্থানীয়দের দাবির মুখে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় অসন্তোষ দানা বাঁধছে। তারা বলছেন, মাঠ রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কঠোর অবস্থানই পারে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে।
এখন এলাকাবাসীর দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে—শতবর্ষী মাঠটি রক্ষা পাবে, নাকি উন্নয়নের নামে হারিয়ে যা বে একটি প্রজন্মের স্মৃতি?


















