বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা সকল ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই দেশে আর রাজার ছেলে রাজা হবে না, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলবে না।”
তিনি বলেন, রাজনীতি হবে মেধা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের প্রমাণের ভিত্তিতে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর বিধান কখনো কারও ওপর জুলুম করতে পারে না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নারী-পুরুষ ও দেশের বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী—সাঁওতাল ভাই-বোনসহ সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ। “আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না, মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ জাগিয়ে রাখার রাজনীতি চলবে না।”
তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যারা বুক চিতিয়ে রক্ত দিয়ে আন্দোলন করেছেন, তাদের একটাই দাবি ছিল— ন্যায়বিচার।
ডা. শফিকুর রহমানের ভাষায়, “We want justice—এই স্লোগানই ছিল তাদের আকাঙ্ক্ষা। সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম হলে সবাই তার অধিকার পাবে।”
দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব বন্ধ করার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, এই দেশে আর আধিপত্যবাদী রাজনীতি চলবে না। প্রতিবেশীসহ সারা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে।

রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মা, স্ত্রী, বোন ও মেয়েরা ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে। তিনি শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেওয়া, প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় মেডিকেল কলেজ এবং শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দিন একটি গণভোট। হা মানেই নতুন বাংলাদেশ, পুরনো দমন-পীড়নের রাজনীতিকে লাল কার্ড। ফ্যাসিবাদ যেখানেই থাকুক, তার বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান গ্যাস সরবরাহ, ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও সুগার মিল পুনরুজ্জীবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলীর সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও জেলা সেক্রেটারি গোলাম মোর্তজার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে রাজশাহীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রায় ৬০ হাজার নারী কর্মীসহ দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মাদরাসা মাঠ।

রাজশাহীতে রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসমুদ্র
এ সময় রাজশাহীর ছয়টি আসনের জন্য ১১ দলীয় জোট মনোনীত এমপি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।



















