আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অনলাইন গেম ও সিনেমার আসক্তি ঠেকাতে পরিবার থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস বন্ধ করে দেওয়ার পর ভারতে একে একে আত্মহত্যা করেছে তিন বোন। অনলাইন গেম ও সিনেমার প্রভাবে ওই তিন বোন আত্মহত্যা করেছেন কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লির অদূরে গাজিয়াবাদ শহরে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে ১২, ১৪ ও ১৬ বছর বয়সী ওই তিন বোন।
পুলিশ জানায়, কয়েক বছর ধরেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং আসক্তিমূলক অ্যালগরিদম শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে—এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিমিশ পাতিল জানান, তিন বোনের পাওয়া সুইসাইড নোট এবং তাদের ব্যবহৃত ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিল এবং কে-পপ গান, অনলাইন গেম ও কোরিয়ান সিনেমা ও নাটকে আসক্ত ছিল।
তিনি আরও বলেন, পরিবারটি আর্থিক সংকটেও ভুগছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, সম্প্রতি তিন বোনের বাবা তাদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস কেড়ে নেন এবং কোরিয়ান নাটক দেখা ও অনলাইন গেম খেলা নিষিদ্ধ করেন।
গত কয়েক দশকে ভারতে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কোরিয়ান সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার র্যাপার সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ গান ভাইরাল হওয়ার মাধ্যমে এই প্রবণতা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কে-পপ ও কোরিয়ান নাটকভিত্তিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হয়।
একসঙ্গে তিন বোনের আত্মহত্যার এই ঘটনা ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তরুণদের দ্রুত বাড়তে থাকা অনলাইন সম্পৃক্ততা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।


















