নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টিতে বসে আছে এক অদ্ভুত রহস্য। শাটার ভাঙেনি, তালা ভাঙেনি — অথচ সিন্দুক ফাঁকা। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণালংকার আর ২০ লাখ নগদ উধাও। কীভাবে?
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সে ঢুকে পড়ে চোর। প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা করে আসা মালিক তূর্য সরকার ও তাঁর ভাই ইমন সরকার শনিবার সকালে এসে দেখেন — সব শেষ। ২০০ ভরি সোনা, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, আর ২০ লাখ টাকা নগদ — কিছুই নেই। এমনকি সিসিটিভির ডিভিআরটাও নিয়ে গেছে চোর!
রহস্যটা শুরু হয় এখানেই। কারুশ্রী ও পাশের আফিয়া জুয়েলার্সের মাঝের দেয়াল কাটা পাওয়া গেছে। কিন্তু দুই দোকানের শাটার আর তালা একদম অক্ষত। তাহলে চোর ঢুকল কোথা থেকে?
দুই দোকানের মালিকের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। কারুশ্রীর মালিকরা বলছেন, আফিয়ার দিক থেকে দেয়াল কেটে তাদের দোকানে ঢোকা হয়েছে। আর আফিয়ার মালিক খন্দকার আরিফুর রহমান বলছেন উল্টো কথা — হয়তো কারুশ্রীতে চুরির পরে দেয়াল কেটে তাঁর দিকে আসা হয়েছে। তাঁর দোকানের সিন্দুক অক্ষত, দেড় লাখ টাকার গহনাও ছিল অথচ কিছুই নেওয়া হয়নি।
এই চুরির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার স্বর্ণপট্টির সব দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভে নামেন ব্যবসায়ীরা। তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন — চোর ধরো, মাল ফেরত দাও। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। তবে পুলিশ কমিশনার দ্রুত অগ্রগতির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান বাজুস রাজশাহীর সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ কবির জানান, “কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না।” আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশের পাশাপাশি সরকারের আরও কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, বিশ্লেষণ চলছে।
প্রশ্ন একটাই — দুই তালা অক্ষত রেখে কোটি টাকার মাল কীভাবে গেল? ভেতরের কেউ, নাকি বাইরের দক্ষ হাত? উত্তরটা পুলিশের হাতেই আছে হয়তো — দেখা যাক কত দ্রুত বেরোয়।



















