নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আলুপট্টি ঘোষপাড়ায় অবস্থিত পদ্মা সর্বজনীন মন্দিরে অনুষ্ঠিত ৭ দিনব্যাপী কীর্তন উৎসবকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী দোকান বসানোর নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগকারী এক দোকানদারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী দোকানদারদের দাবি, প্রতিবছরের মতো এবারও কীর্তন উৎসব উপলক্ষে মন্দিরসংলগ্ন সরকারি রাস্তার পাশে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান বসে। অতীতে দোকানিরা স্বাধীনভাবেই দোকান বসাতে পারলেও এবার অধিকাংশ দোকানির কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোকানদারদের ভাষ্যমতে, একটি জিলাপির দোকান থেকে ৭ হাজার টাকা এবং আরেকটি দোকান থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মেলায় বসা প্রায় ৭০ শতাংশ দোকান থেকেই এভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই চাঁদা আদায়ের সঙ্গে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ সরকার বিশ্বসহ ফিরোজ, সজীব, জনি ও সৌরভের নাম উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বজিৎ সরকার বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, ফিরোজ এলাকার বড় ভাই এবং তিনি ৭ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে ফিরোজই বিস্তারিত বলতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিযুক্ত দাবি করেন, আদায় করা অর্থের মধ্যে থেকে বিশ্বজিৎ সরকার বিশ্বও ৩ হাজার টাকা ভাগ নিয়েছেন। এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, সংবাদে বক্তব্য দেওয়া এক দোকানদারের কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং দোকানের মালিককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ সরকার বিশ্ব ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গাইবান্ধা থেকে ওই দোকানদারকে রাজশাহীতে ডেকে এনে সংবাদে দেওয়া বক্তব্য অস্বীকার করাতে এবং মিথ্যা বক্তব্য দিতে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীর নিকট একই অভিযোগের ফোনে জানা যায় সেই অভিযোগসংক্রান্ত কল রেকর্ড ইতোমধ্যে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়কের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে শোকজসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



















