অপরাধ - দূর্নীতি

রাজশাহীকে ‘স্মোক-ফ্রি মডেল সিটি’ গড়তে পাঁচ দপ্তরে স্মারকলিপি

  সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:১৩:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীকে তামাকের ধোঁয়া ও জনস্বাস্থ্যের নীরব হত্যাযজ্ঞ থেকে মুক্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে প্রশাসনের শীর্ষ পাঁচ দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) ও ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়। সরকারের সদ্য জারি করা ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শতভাগ বাস্তবায়ন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথকভাবে নীতিনির্ধারণী স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য ভাবনায় সক্রিয় গবেষণাধর্মী তরুণ সংগঠন ইয়্যাস এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয় যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার জাতীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এখনই কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

 

ইয়্যাস-এর সভাপতি, লেখক ও উন্নয়ন-অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়-এর সাধারণ সম্পাদক ও শ্রেষ্ঠ যুব সাংস্কৃতিককর্মী মো. রবিন শেখের যৌথ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশ্য স্থান ও গণপরিবহণে ধূমপান বন্ধে আইন কার্যকরের দাবিতে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইয়্যাস প্রথমবারের মতো বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলন, জনমত গঠন ও নীতিগত চাপের ফলেই বর্তমান সরকার ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যুগোপযোগীভাবে সংশোধন করেছে। এখন এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কঠোর ভূমিকা জরুরি বলে স্মারকলিপিতে জোর দাবি জানানো হয়।

 

স্মারকলিপিতে রাজশাহীকে ‘স্মোক-ফ্রি মডেল সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক সুস্পষ্ট সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায়ে কঠোর অবস্থান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন। একইসঙ্গে নতুন আইনের আলোকে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের আমদানি ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে বাজার ও দোকানগুলোতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

 

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের একশ’ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ, বিড়ি উৎপাদন ও তামাক চাষ বন্ধ করে কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসলে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়। তামাক চাষিদের জন্য রেশম ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা প্রদানের দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি নগরজুড়ে ‘ধূমপানমুক্ত এলাকা’ সাইনেজ স্থাপন এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

স্মারকলিপি প্রদান শেষে মো. শামীউল আলীম শাওন বলেন, রাজশাহী শুধু একটি শহর নয়, এটি একটি সম্ভাবনার নাম। এই শহরকে তামাকের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ প্রজন্মের জন্য উপযোগী নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আইনের কঠোর প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, রাজশাহীকে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্মোক-ফ্রি মডেল সিটি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

 

ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়-এর সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ বলেন, সংস্কৃতি ও জনস্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে তামাকমুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। তিনি রাজশাহীকে দেশের প্রথম তামাকমুক্ত মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান।

আরও খবর

Sponsered content