নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে ঢুকে চাঁদা দাবি আর প্রাণঘাতী হামলার মামলায় বড় মোড়। প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে (৩৭) ছুরিকাঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ২ নম্বর আসামী কথিত কপি পেস্ট “সাংবাদিক” সুরুজ আলীকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ ২৭ জুলাই, সোমবার — চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন আসামিরা। কিন্তু বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান সুরুজ আলীর জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বাকি আসামীদের ভাগ্যে জুটেছে জামিন।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
ঘটনার শুরু গত ৭ মার্চ রাতে। নগরীর শিরোইল কাঁচাবাজারস্থ বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে দেশীয় অস্ত্র আর পিস্তল নিয়ে ঢুকে পড়ে আসামিরা, দাবি করে ৪ লাখ টাকা চাঁদা। সভাপতি রেজাউল করিম রাজি না হতেই ১ নম্বর আসামী নূরে ইসলাম মিলন (৪৫) তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেন।
তারপর শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি। এই সময় সুরুজ আলী ধারালো চাকু দিয়ে সভাপতির পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেন। রেজাউল প্রতিরোধ করতে গেলে কোমরের নিচে একের পর এক কোপ পড়ে তার শরীরে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার শরীরে পড়ে ১৩টি সেলাই।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি থেকে “সাংবাদিক”
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য — সুরুজ আলী নগরীর তেরখাদিয়ার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে, পেশায় মূলত একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি। কোনো একাডেমিক শিক্ষাগত সনদ ছাড়াই রাতারাতি নিজেকে “সাংবাদিক” পরিচয় দেওয়া শুরু করেন তিনি। এমনকি রাজশাহী প্রেসক্লাবের পাঠাগার সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক পদও বাগিয়ে নেন। তার সাথে যুবলীগের রাজনীতির সক্রিয় সম্পৃক্ততারও তথ্য মিলেছে।
ঘটনার পর বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন (মামলা নং-০৬, তারিখ ০৮/০৩/২০২৬)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
মামলার পরবর্তী অগ্রগতি জানাতে সকালের বুলেটিন সাথেই থাকছে।



















