নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর বাগমারায় সোহেল রানা নামে পলাতক ও একাধিক মামলার আসামি এক যুবলীগ নেতার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মহল্লায় ওই পুকুরে রুই, কাতলা ও অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছ মরে ভেসে ওঠে। স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার রাতে পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা।
সোহেল রানা তাহেরপুর পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নুরপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন বলে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এর আগে গত ২১ মার্চ ঈদের রাতে তাহেরপুর পৌর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার অনুসারীরা সোহেল রানার বাড়িঘর ভাঙচুর করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের প্রায় ১২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তিনি পলাতক থাকায় তাঁর স্বজনেরা পুকুরটি দেখাশোনা করতেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে কোনো পাহারাদার রাখা হয়নি।
সোহেল রানার স্বজনদের দাবি, পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটির দেখভাল করলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর কয়েকটি পুকুর বেদখল হয়ে যায়। হুমকির কারণে পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি।
তারা আরও জানান, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে যারা হুমকি দিয়ে আসছে, তাদের সন্দেহ করা হলেও এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি। তাদের দাবি, থানায় গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা নাও হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা আপাতত আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে নীরব থাকাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















