নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহীতে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুরের বহু ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাড়িয়াদহ, পবা উপজেলার চর মাজারদিয়া এবং রাজশাহী নগরের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৭ দশমিক ৪৯ মিটার, যা বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটারের মাত্র ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে। যদিও বুধবার থেকে পানির উচ্চতা কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও নদীপাড়ের বাসিন্দারা শঙ্কায় রয়েছেন। তারা অধীর অপেক্ষায় আছেন পানি কমে যাওয়ার জন্য। বিশেষ করে নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের পাশের বস্তিতে বসবাসকারী বহু পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে অসহায় ঘরবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন সংগঠনটির সম্মানিত সেক্রেটারি জনাব ইমাজ উদ্দিন মন্ডল।
খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমে চাল, ডাল, তেল, আলু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নৌকা ও ছোট ট্রলারের মাধ্যমে পানিবন্দী এলাকায় প্রবেশ করে ঘরে ঘরে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় জনাব ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, “মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা আজ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের কষ্ট লাঘবে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রাজশাহীর যে কোনো সংকটে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে থাকবে।”
খাদ্য সহায়তা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, পানি ঢুকে পড়ার কারণে ঘরে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না, বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সময়ে খাদ্য সহায়তা তাদের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের টানা পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চকরাজাপুর, চরআষাড়িয়াদহ, চর মাজারদিয়া ও নগরের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।



















