নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের টাংকিপাড়া পল্টুর মাঠ এলাকার এক নাবালিকা ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপহরণকারীসহ তাকে উদ্ধার করেছে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ।
জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল নাবালিকা লামিয়াকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১০ এপ্রিল আনুমানিক রাত ১২টা ৩০ মিনিটে অপহরণকারী রাসু (পিতা: মিঠু, ঠিকানা: তালাইমারি গোরস্থান সংলগ্ন এলাকা) কে আটকসহ লামিয়া (পিতা: হানিফ) কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত দুজনকে থানায় আনার পর ছেলেপক্ষ দাবি করে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল এবং পারিবারিক কলহের কারণে তারা স্বেচ্ছায় বিয়ের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, লামিয়া একজন নাবালিকা এবং সে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
অন্যদিকে মেয়ের পরিবারের অভিযোগ, রাসু ইতোমধ্যেই বিবাহিত এবং তার স্ত্রীর নাম খুশি। এমনকি তার একটি সন্তানও রয়েছে। তারা দাবি করেন, এটি পরিকল্পিত অপহরণ ছাড়া আর কিছু নয়। এছাড়া অপহরণের সময় লামিয়ার কানে থাকা সোনার দুল নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণ মামলা রুজু করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, লামিয়ার কানের সোনার দুলটি রাসু তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিঠুর সহযোগিতায় স্থানীয় স্বর্ণকার পট্টিতে বিক্রি করে। এ সময় মিঠু বিক্রিত টাকার মধ্যে থেকে ২,২৫০ টাকা আত্মসাৎ করে বাকি টাকা রাসুর কাছে দেয় বলে জানা গেছে।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, পুরো ঘটনায় রাসুকে সহযোগিতা করেছেন তার চাচা মন্টু, যিনি পবা উপজেলার হরিপুর সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি রাজনৈতিক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এই ঘটনায় আশ্রয়দাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত রাসু বিবাহিত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তির সঙ্গেও জড়িত।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানা জানায়, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পবা উপজেলার হরিপুর এলাকায় অবস্থানকালে তাদের মোবাইল ফোন চালু হওয়ায় দ্রুত ট্র্যাক করে আটক করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপহরণ মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত রাশুকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















