নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে চলমান তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে যখন রাজশাহীর সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদামতো জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না, ঠিক সেই সময় নগরীর বোয়ালিয়া থানার অন্তর্গত কুমারপাড়া গুল গফুর ফিলিং স্টেশন থেকে বিআরটিসি বাসে অতিরিক্ত তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সোমবার ভোরে ফজরের নামাজের পর সরেজমিনে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দেখা মেলে রাজশাহী-নওগাঁ রুটের একটি বিআরটিসি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫৬৮২৮)। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রথমে বাসের সুপারভাইজার ট্যাংকি পূর্ণ করার নির্দেশ দেন। কিছুক্ষণ পর বাসের হেলপার দুটি বড় জার এনে পাম্পের মেশিনের পেছনে রাখে। বাসের ট্যাংকি পূর্ণ হওয়ার পর সুপারভাইজার পাম্প কর্মচারীকে জানান, ম্যানেজার জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে—জারগুলোতেও তেল ভরতে হবে।
এরপর দুটি জার ভর্তি করার পর বাসের সাইড বক্স খুলে দেখা যায়, ভেতরে আরও একাধিক বড় জার্কিন রাখা আছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলোতেও তেল ভরা শুরু হয়।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে বোয়ালিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জকে জানানো হলে পুলিশ ফোর্স পাঠানোর কথা জানায়। তবে পাম্পে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বোতলে তেল দেওয়া নিষিদ্ধ—এমন কিছু হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” কিন্তু তেল ভরার ছবি দেখানোর পর তিনি কর্মচারীর ওপর ক্ষিপ্ত হন, যদিও ইতোমধ্যে নেওয়া তেল ফেরত নেওয়া বা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
পরে থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি এএসআই রেজাউলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় বাসটি পাম্প থেকে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে নওগাঁর উদ্দেশ্যে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এএসআই রেজাউল বাসের হেলপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, “আমার বিষয়টি জানা ছিল না, জানার আগেই তারা প্রায় ৬০ লিটার তেল নিয়ে গেছে।” সরেজমিনে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও এএসআই রেজাউল বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, “নিয়েছে তো নিয়েছে, এখন আর কী করার আছে,” বলে এড়িয়ে যান।
এদিকে সংশ্লিষ্ট বাসটি রাজশাহীর পরিচিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী দিলদার সাহেবের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরএমপি মিডিয়ার মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















