নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। রাজশাহী মহানগরীর স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত এ কার্যক্রমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় এনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাসিক।
রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদানের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৮৮৬ জন শিশুকে। তবে বাস্তবে টিকা প্রদান করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩৭০ জনকে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে এমন অর্জন শুধু প্রশাসনিক সফলতাই নয়, বরং জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগেরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সফলতা অর্জনের পর রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ, রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্যকর্মী, ইপিআই সুপারভাইজার, টিম লিডার, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সচেতন নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়েই আমরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সফলতা অর্জন করেছি। এই অর্জন রাজশাহীবাসীর সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।”
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি রাসিক। বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে “মপ-আপ” কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি র্যাপিড কনভিনিয়েন্স মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তথ্য অনলাইনে আপলোড করে পুরো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি একটি কার্যকর ডাটাবেজও তৈরি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে মোট ৪৩৮টি কেন্দ্রে প্রথম ধাপে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ২০ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী টিকাদান কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই জায়গা থেকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ শুধু প্রশংসার দাবিদারই নয়, বরং দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুসরণীয় উদাহরণ হতে পারে।



















