রাজশাহী: গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে গৃহবধূ সোনিয়া বেগম ও তাঁর দুই নিষ্পাপ শিশুকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া এবং নিরুপায় হয়ে স্বামীর কবরের পাশে তাঁদের আশ্রয় নেওয়ার পৈশাচিক ঘটনায় গভীর মর্মবেদনা ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস), রাজশাহী-এর সভাপতি এবং বিশিষ্ট লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মোঃ শামীউল আলীম শাওন।
আজ এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনাকে ‘আধুনিক সভ্যতায় চরম বর্বরতা ও আইনের শাসনের মুখে চপেটাঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিবৃতিতে মোঃ শামীউল আলীম শাওন বলেন:
“এখানে বিষয়টিকে কেবল ‘পারিবারিক বিবাদ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ৯ বছরের কন্যা ও ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে একজন মা যখন খোলা আকাশের নিচে কবরের পাশে রাত কাটান, তখন বুঝতে হবে আমাদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুজন মাহমুদকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। এরপর তাঁর এতিম সন্তানদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘মীমাংসার চেষ্টা’র কথা বলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। যখন ভিক্টিমদের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন অপরাধীদের সাথে টেবিলে বসা সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে আইনের কঠোর প্রয়োগই হওয়া উচিত ছিল প্রথম পদক্ষেপ।”
প্রশাসনের প্রতি মোঃ শামীউল আলীম শাওনের ছয় দফা দাবি:
১. তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: সোনিয়া বেগম ও তাঁর সন্তানদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণকারী এবং তাঁদের আশ্রয়চ্যুতকারী শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়িকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. নিরাপদ আবাসন ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিক্টিমদের উদ্ধার করে তাঁদের জন্য নিরাপদ আবাসন, খাদ্য ও সুচিকিৎসার স্থায়ী রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
৩. চিকিৎসায় অবহেলার তদন্ত: সুজন মাহমুদের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী হত্যা বা অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করতে হবে।
৪. সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ: মুসলিম উত্তরাধিকার আইন ও পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে ওই নারী ও তাঁর সন্তানদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং ওই বাড়িতেই তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শিশু সুরক্ষা আইন ২০১৩-এর প্রয়োগ: ১৮ মাসের শিশু ও ৯ বছরের কন্যার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার দায়িত্ব নিতে হবে।
৬. গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান ও তাঁদের কাজে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সমুন্নত থাকে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“একটি জাতির সভ্যতা পরিমাপ করা হয় তার সবচেয়ে অসহায় মানুষটির সাথে রাষ্ট্রের আচরণের নিরিখে। সোনিয়া বেগম ও তাঁর দুই সন্তান আজ আমাদের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক বড় পরীক্ষা। আমরা যদি আজ তাঁদের পাশে দাঁড়াতে না পারি, তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে। ‘ইয়্যাস’ এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।”



















