নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকায় এক ট্রাকভর্তি জিরা লুটের ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার কেজি জিরা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস সরদার (২৬) মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বাঘা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ মে ভোরে পাবনা থেকে ট্রাকে করে আড়ানীতে আনা ৩০০ বস্তা জিরা ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে লুট করা হয়। এতে আড়ানী বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সুজাত আহম্মেদ (৫৫)-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), ভাগনে সুইট (২৫) ও শান্ত (২৮)-কে মামলায় আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার জানান, তিনি একজন আমদানি ব্যবসায়ী। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলামের মাধ্যমে জিরা বিক্রির এই লেনদেন হয়। পরে আড়ানীতে পৌঁছানোর পর পরিকল্পিতভাবে লেনদেনের নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ট্রাক আড়ানীতে পৌঁছালে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে এবং বাকি ১৫০ বস্তা একটি গুদামে নামানো হয়। এ সময় নগদ টাকা দেখানো হলেও পরে ব্যাংক সই করা ফাঁকা চেক দেওয়া হয়। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুদাম থেকে সব জিরা সরিয়ে ফেলা হয় বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে টাকা চাইতে গেলে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দেওয়া ব্যাংক চেক আড়ানী বাজারের কাছে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে গিয়ে চাকু দেখিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় আড়ানী পৌর বিএনপির নেতারা।
এ বিষয়ে আড়ানী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। ৩৭ লাখ টাকা পরিশোধের মাধ্যমে মীমাংসার প্রস্তাবও ছিল এবং ব্যবসায়ী তা মেনে নিয়েছিলেন। তবে পরে সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে হয়।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত স্থানীয় উদ্যোগে ১৭৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি জিরা ও অর্থের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেরাজুল হক স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে—এক ট্রাকে থাকা ৩০০ বস্তা জিরা, মোট প্রায় ৯ হাজার কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ লাখ টাকা, লুট করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো জনগণের নিরাপত্তা আগে। এটি শুধু লুট বা চুরি নয়; বরং লোকজন নিয়ে ট্রাক ঘেরাও করে মব সৃষ্টি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, তিনি ঢাকায় একটি সভায় থাকায় বিস্তারিত জানতে পারেননি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি দেখেছেন। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো স্থান রাজশাহী জেলা বিএনপিতে হবে না। তিনি বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।



















