নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর কিসমতগনকৈড় ইউনিয়নের উজালখলশী গ্রামের সরকারপাড়া পীরপাল মহল্লায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার মাঝখানে ৪ থেকে ৫টি নারিকেল ও মেহগুনি গাছ থাকার কারণে স্থানীয় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষাকালে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেলে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গাছগুলো অপসারণ করে রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলঘরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দুর্গাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী সরকারের মালিকানাধীন এসব গাছ রাস্তার মাঝখানে রয়েছে। রাস্তা নির্মাণের সময় গাছগুলো অপসারণের কথা বলা হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে গাছ না কেটেই রাস্তার কাজ শেষ করতে বলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার করা হলেও মাঝখানে গাছ থাকার কারণে পুরোপুরি উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে যত্রতত্রভাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও জরুরি রোগী পরিবহনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক আবুল কাশেম বলেন, “রাস্তা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাঝখানে গাছ থাকায় ভালোভাবে ভ্যান চালানো যায় না। অসুস্থ রোগী বা বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়।”
আরেক ভ্যানচালক ইসরাফিল বলেন, “সরকার রাস্তা করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গাছ থাকার কারণে আমরা সেই সুবিধা পাচ্ছি না। দ্রুত গাছগুলো কেটে ফেললে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এছাড়া বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাশতুরা আমিনা বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















