নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটের প্রধান ফটকের সামনে দোকানের জায়গা নিয়ে দুই নারীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ফুটপাত দখল ও অস্থায়ী দোকান বসানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরডিএ মার্কেটের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘১ নম্বর গদি’ মুদি দোকান পুনর্নির্মাণের সময় এক নারী সেখানে অস্থায়ীভাবে পোশাকের দোকান বসান। পরে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে গদির মালিকপক্ষ তাকে স্থান ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী দাবি করেন যে স্থানীয় কয়েকজনকে তিন লাখ টাকা দিয়ে তিনি ওই স্থানে দোকান বসিয়েছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ‘১ নম্বর গদি’র পক্ষ থেকে তাকে তিন লাখ টাকা ফেরত দিয়ে স্থান ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এরপরও দোকান না সরানোয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার ওই বিরোধের জেরে দুই নারীর মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ভাষাসৈনিক মোশারফ হোসেন আখুঞ্জিসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরডিএ মার্কেটের অন্যান্য দোকান মালিক ও কমিটির সদস্যদের দাবি, পুরনো মার্কেট ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকাকালে মানবিক কারণে কয়েকজনকে ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কেট আধুনিকায়নের পর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সে সময় মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রায় তিন লাখ টাকা করে দেওয়া হয় বলেও জানা যায়।
তবে আর্থিক সহায়তা গ্রহণের পরও কেউ কেউ ফুটপাত ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।
এদিকে আরডিএ মার্কেট কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিকভাবে প্রভাবশালীদের পক্ষ নিয়ে উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আরডিএ মার্কেট কমিটি নেতা ও ‘১ নম্বর গদি’র পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ফুটপাতে ব্যবসা করা ওই নারী সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন—এই সমস্যার একটি সঠিক ও স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহাফুজুর রহমান রিটনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং মার্কেটের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে।



















