প্রতিনিধি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪৯:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীতে গাড়ি কেনার ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে একটি জিপ গাড়ি নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী মহানগর যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও গাড়িটি ফেরত না দিয়ে উল্টো গ্যারেজ মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্তের নাম এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়। তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার না পেয়ে রোববার (দুপুরে) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার সহোদর মোহাম্মদ আলী।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রাজশাহী মহানগরীর বন্ধগেট এলাকায় নূর আহমেদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে গাড়ি মেরামতের পাশাপাশি বৈধভাবে পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করা হয়।
গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে যুবদল নেতা তন্ময় গ্যারেজে এসে একটি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। দরদাম শেষে ছয় লাখ টাকায় গাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ট্রায়াল দেওয়ার কথা বলে গাড়িটি নিয়ে যান তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও গাড়িটি আর ফেরত দেননি।
নূর আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি নেওয়ার ঘণ্টাখানেক পর একাধিকবার ফোন করা হলেও তন্ময় ফোন ধরেননি। পরদিন ফোন ধরলেও তিনি ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে যোগাযোগ এড়িয়ে যান। পরবর্তী সময়ে কখনো দলের চেয়ারপারসনের অসুস্থতার কথা বলে, কখনো ঢাকায় থাকার অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রাজশাহী ফিরে যোগাযোগ করা হলে তন্ময় নূর আহমেদকে হুমকি দিয়ে বলেন, তোর যা করার কর। আমি যুবদলের নেতা। থানায় গেলেও মামলা নেবে না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলব। এরপর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী নূর আহমেদ জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ২২ ডিসেম্বর রাজশাহীর সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
নূর আহমেদ দাবি করেন, গাড়িটি তিনি লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে বৈধভাবে কিনেছেন। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা, বিআরটিএর কাগজপত্রসহ সব ধরনের বৈধ কাগজ তার কাছে রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তন্ময় প্রতারণার মাধ্যমে মহানগরীর চণ্ডিপুর এলাকার এক ব্যক্তির গাড়ি আত্মসাৎ করেছিলেন, যা নিয়ে একটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এর আগে একবার ফোনে তিনি দাবি করেন, গাড়িটি তিনি অচল অবস্থায় নিয়েছিলেন এবং নূর আহমেদ আগে অন্য এক ব্যক্তির কাছে তিন লাখ টাকায় গাড়িটি বিক্রি করেছিলেন। তাকে গাড়ি না দিয়ে পুনরায় তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বদনাম করা হচ্ছে এবং তিনি পাল্টা মামলা করবেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানা গেছে। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত কেন্দ্রীয় যুবদলকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

















