নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ‘দখল’ করা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ গুজব। সরজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, নগরের উপকণ্ঠ সিটিহাট এলাকায় অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয়টি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ওই সময় ভাঙচুর, লুটপাট এবং দরজা-জানালা খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে, ফলে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিচ্ছেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শন করছেন। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই ‘দখল’ নিয়ে প্রচারণা শুরু হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সকালের নামাজের সময় বা নামাজের পর কয়েকজন এসে ছবি-ভিডিও ধারণ করে দ্রুত চলে যায়। তারা দীর্ঘ সময় অবস্থান করেনি এবং কোনো ধরনের দখল বা স্থায়ী কার্যক্রমের আলামত নেই। এলাকাবাসীর দাবি, গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপি-এর মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত তথ্য গুজব। সেখানে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। ভবনটি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না থাকলেও কার্যালয়ে গিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম করার সুযোগ নেই; পুলিশ দেখতে পেলে ব্যবস্থা নিত।”
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ না হলেও তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত। ফলে পরিত্যক্ত কার্যালয়ে গিয়ে স্লোগান বা ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে যে দখলের দাবি তোলা হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি এড়াতে যাচাই করা তথ্য প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।



















