নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা ও শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের জন্মোৎসব উপলক্ষে রাজশাহীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ উপলক্ষে শুক্রবার (দুপুর ২টা) রাজশাহী পঞ্চবটী মহাশ্মশান ও মন্দির কমপ্লেক্স-এ আয়োজিত পূজা অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মাননীয় প্রশাসক।
এ সময় তিনি পূজামণ্ডপে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। পরে তিনি মন্দির কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে রাসিক প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে—এটাই আমাদের ঐতিহ্য।”
তিনি আরও বলেন, “রাজশাহীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে নাগরিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি উল্লেখ করেন, নগরীর প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উন্নয়নে রাসিক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। “মন্দির কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা আমরা অব্যাহত রাখবো,”—বলেন তিনি।
প্রশাসক আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন রাজশাহী গড়তে শুধু সিটি কর্পোরেশন নয়, নগরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা কেউ যেন যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলি এবং নিজেদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলি।”
তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তবে রাজশাহীকে দেশের অন্যতম মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
কর্মসূচির শুরুতে রাসিক প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সভাপতি সুশীল আগরওয়াল, সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার ভৌমিক, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন রায়, অর্থ সম্পাদক প্রণব কুমার দে, সদস্য প্রশান্ত কুমার সাহা, রঞ্জন কুমার মিত্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল প্রসাদ বিতরণ ও ভক্তদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন। সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, যা রাজশাহীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।



















