নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক (২০২৬-২০২৮) নির্বাচন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে ঘিরে রাজশাহীর ব্যবসায়ী মহলে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
এ নির্বাচনে “সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ, রাজশাহী”-এর ‘ক’ প্যানেল থেকে পরিচালক পদে ‘মোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন ব্যবসায়ী ইমাম মেহেদী। তিনি রাজশাহীর সর্বস্তরের ব্যবসায়ীসহ চেম্বারের ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে ইমাম মেহেদী বলেন, নির্বাচিত হলে শুধু চেম্বারের সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাজশাহীর সকল ব্যবসায়ীর পাশে থাকার চেষ্টা করবেন তারা। ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যা, বিপদ-আপদে ২৪ ঘণ্টা পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমান ডিজিটাল অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ এনে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজশাহীর ব্যাংকগুলোতে ব্যবসায়ীদের জমা রাখা অর্থের একটি বড় অংশ ঢাকায় স্থানান্তর হয়ে যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। এ সমস্যার সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিগত সময়ে চেম্বার পরিচালনায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে ইমাম মেহেদী বলেন, তাদের ‘ক’ প্যানেলে স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকৃত ও তরুণ ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে প্রার্থী না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী ‘খ’ প্যানেল নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই প্যানেলে একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন, যা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, চেম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইমাম মেহেদী বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চেম্বার গড়তে চাই। তাই আমাদের প্যানেলে পরিবারতন্ত্র নয়, বরং প্রকৃত ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চেম্বার অব কমার্স ব্যবসায়ীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত—এই মূল উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করতে চাই। কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।
ধর্ম, দল বা ব্যবসার আকার নির্বিশেষে সকল ব্যবসায়ীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান—ছোট-বড় সব ব্যবসায়ীই আমাদের কাছে সমান। আমরা নির্বাচিত হলে ২৪ ঘণ্টা সবার পাশে থাকব।
আসন্ন এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ইতোমধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে রাজশাহীর ব্যবসায়ী অঙ্গনে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে চেম্বারে নতুন নেতৃত্ব আসবে, যা রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।



















