নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন ‘হোটেল প্রবাসী’তে আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের রমরমা আসর। অতিথি নিবন্ধনে তথ্য গোপনসহ নানা গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অনৈতিক কাজ ও মাদকের আখড়া
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ ও হোটেলের ম্যানেজারের যোগসাজশে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ১জন নারী হোটেলে এনে দুপুর পর্যন্ত রাখা হয়। তাদের ৩-৪ টি মেয়ে রয়েছে একেক দিন একেক জন হোটেলে ভোরে প্রবেশ করে। পুলিশের বা প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে সুকৌশলে তাদেরকে হোটেলের ‘কাজের মেয়ে’ বা কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। এছাড়া মাঝে মাঝে বিকাল বা সন্ধায় প্রেমিক-প্রেমিকারা ঘণ্টাভিত্তিক কক্ষ ভাড়া নেয়।
অন্যদিকে, বিকেল থেকে বাজার বন্ধ হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় কিছু অসাধু দোকান মালিক ও কর্মচারী ওই হোটেলে মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হোটেলের বাইরে আশপাশের কোনো ভাড়াবাসাতেও এ ধরনের নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতে পারে বলে এলাকাবাসীর সন্দেহ।
তথ্য গোপন ও নিরাপত্তা ত্রুটি
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘণ্টাভিত্তিক বা স্বল্প সময়ের জন্য আসা এসব অতিথিদের তথ্য হোটেলের নিবন্ধন খাতায় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়। প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এবং প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হোটেলটিতে কোনো দৃশ্যমান সিসিটিভি ক্যামেরাও রাখা হয়নি। এতে করে বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তদন্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী।
অনিয়মের পুরোনো রেকর্ড
হোটেল প্রবাসীতে এমন অনিয়ম নতুন নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে গত ১৬ অক্টোবর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকার আলামিন নামক এক তরুণ-তরুণীকে এই হোটেলের একটি কক্ষ থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছিলেন স্থানীয়রা। সে সময় হোটেলের কর্মচারী সাগর নিবন্ধন খাতায় কোনো তথ্য লিপিবদ্ধ না করেই টাকার বিনিময়ে দুই ঘণ্টার জন্য কক্ষটি ভাড়া দিয়েছিলেন। বোয়ালিয়া মডেল থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি অবগত ছিলেন এবং এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল প্রবাসীর ম্যানেজার লিয়াকত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি না থাকার সময় বয়রা ভুলবশত স্থানীয় দুই-একজনকে কক্ষে প্রবেশ করতে দিয়েছিল। তাদের এমন কাজ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে পুলিশ কমিশনার সকল হোটেল মালিককে নিয়ে বৈঠক করে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে সেই নির্দেশনা ও নিয়ম মেনেই হোটেল পরিচালিত হচ্ছে।”
তবে বোয়ালিয়া মডেল থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকদিন আগেই হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তখন হাতেনাতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন এবং বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।



















