নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দিনের আলোতে পুকুর ভরাট, প্রশাসন এসে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে ফিরে যায়
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্বাচন নিয়ে দেশের প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগে রাজশাহী নগরীতে পুকুর ভরাট এবং উপজেলাগুলোতে পুকুর খননের অভিযোগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি উপজেলা থেকেই গণমাধ্যমে পুকুর খনন সংক্রান্ত অভিযোগ আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পুকুর দিনের আলোতে ভরাটের অভিযোগ উঠে আসে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪–৫টি ট্রাক্টরে করে বালু এনে পুকুরের পাড়ে ফেলা হচ্ছে। ৬–৭ জন শ্রমিক সেই বালু পুকুরে ফেলে ভরাটের কাজ করছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত তিন দিন ধরে কাজ চলছে এবং এরই মধ্যে পুকুরটির অর্ধেকের বেশি অংশ ভরাট হয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর ও তার ভাতিজা আসলাম ঠিকাদার পুকুরটি ভরাট করছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা প্রকৃত পুকুর না। আগে পাশের জমির মালিকরা ভরাট করে বাড়ি করেছে। এখন এখানে নোংরা পানি ও ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়, এটা ডোবায় পরিণত হয়েছে। আমার ভাতিজা আসলামের প্রায় ৩ কাঠা জায়গা আছে, সেটাই ভরাট করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি কোন পত্রিকা বা অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক, আগে কখনও দেখিনি। অনেক সাংবাদিক পরিচিত, অনেকে এখানে এসেছিল, সবাইকে সম্মান করা হয়েছে।” এ সময় তিনি তার ভাতিজা আসলাম ঠিকাদার আসছেন জানিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরে তার মোবাইল নম্বর দেন।

নির্বাচনের ব্যস্ততার সুযোগে রাজশাহীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুর ভরাটের কাজ চলছে
পরে আসলাম ঠিকাদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আমার জায়গা ভরাট করছি। নিজের জায়গা ভরাট করতে অন্যের অনুমতি কেন নেবো? পাশের লোক ভরাট করে বাড়ি করেছে, আমিও করবো।”
শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া কীভাবে পুকুর ভরাট করছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যদি অনুমতি লাগে তাহলে আজ কাজ বন্ধ করে দেবো। নির্বাচনের পর বাকিটা ভরাট করবো।”
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনকে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচনের দায়িত্বে ব্যস্ত আছি। তবুও বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত লোকেশন ও তথ্য দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। প্রয়োজনে পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করা হবে। পরে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মো: আরিফ হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালিয়া, রাজশাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত আছি। তবুও বিস্তারিত তথ্য দিলে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নয়ন কুমার সাহা (সিনিয়র সহকারী সচিব) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, “বিষয়টি জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ বা সংবাদ কপি পেলে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পর পরিবেশ অধিদপ্তর ও এসি ল্যান্ড কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় লোক পাঠানো হয়। তবে সরেজমিনে পুকুর ভরাট চলাকালীন উপস্থিত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা বা মামলা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের শুধু কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয় এবং নির্বাচন শেষে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
বিষয়টি নিয়ে পুনরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন, “আমাদের ও এসি ল্যান্ডের পক্ষ থেকে সেখানে লোক পাঠানো হয়েছিল। আপাতত ভরাট কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণ খনন, জরিমানা বা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















