নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী ওয়াসার চাকুরী মানে আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পাওয়া। দূর্নীতির মহা কারখানা রাজশাহী ওয়াসা এখানে এমন কোনো কর্মকর্তা নাই যার হাতে দূর্নীতি হয়নি। ওয়াসার সব দুর্নীতিবাজদের মধ্যে সব চাইতে বড় রাঘববোয়াল হলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ডন। এছাড়াও তার বড় পরিচয় তিনি একজন ব্যবসায়ী ও আওয়ামীলীগের সক্রিয় রাজনীতিবিদ। যাকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ক্যাশিয়ার হিসেবে জানে সবাই। সাবেক মেয়রকে আব্বা আর তার সহধর্মিনীকে আম্মা বলে ডাকতেন তিনি।
ওয়াসায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন তিনি । সর্বশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি করে ফের আলোচনায় আসেন। রাজশাহী ওয়াসার মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ডনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে নাকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়রা। ৫ আগষ্টের পর তিনি ডুমুরের ফুল হয়ে যায় এরপর বিএনপির নেতাকর্মিদের পকেট গরম করে বুক ফুলিয়ে অফিস করেছেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে। ছাত্র আন্দোলন দমাতে টাকা যোগানদাতা ও সন্ত্রাসী ভাড়া করাই তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডারবাজ এই ডন স্যার কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই বেতন পেয়ে রাজশাহীতে এত সম্পত্তি করা জীবনেও সম্ভব না। কোন কাজ কে করবে সেটা সেই নির্ধারণ করতো। তার পছন্দের মানুষ ছাড়া কেউ পাইনি কোনো কাজ। নিম্নমানের কাজ করলেও কাউকে কিছু বলা হয়তনা। কাজে অনিয়ন দূর্নীতি করার পরও তারাই পেতো পরের কাজ গুলিও। মেয়রের ভয় দেখিয়ে অফিসের সবার মুখে তালা দিয়ে রাখতো। তার পকেট গরম না হলে পরে থাকত ফাইল গুলি। ঠিক মত অফিস না করেও বুঝে নিত বেতন আর দূর্নীতির কমিশন। ভেবেছিলাম ৫ আগষ্টের পর হয়তো নিয়মে চলবে ওয়াসা কিন্তু না টাকা দিলে সব হয় সেটা প্রমাণ করে দিল ডন সাহেব। কিনে নিলো স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের। তাদের বলেই এখনও বহাল তবিয়তে তিনি। আওয়ামী লীগ পন্থী প্রকৌশলী সোহেল রানা ডন তাঁর দলীয় কিছু ঠিকাদার মারফত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আওয়ামীলীগ ব্যতীত কোনো ঠিকাদার কে কাজ দেইনি।বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভিন্ন মতাদর্শে কোনো ঠিকাদারকে তিনি ওয়াশায় ঢুকতে দেননি। এখন তাদেরকেই কাজের লোভ আর মোটা অংকের টাকা দিয়ে প্রকাশে চলছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা ডনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এগুলি কথা ফোনে বলতে চাইনা সামনে আসেন কথা হবে বলে ফোন রেখে দেই। পরে তাঁকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ও তার সম্পত্তির তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ চলমান রয়েছে ২য় পর্বে সেগুলি তুলে ধরা হবে।



















