নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে (রাসিক) তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তিনটি পৃথক আবেদন করার দুই দিনের মাথায় নগরীর অবৈধ দখল ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এতে নড়েচড়ে বসেছে রাসিক প্রশাসন—এমনটাই মনে করছেন কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
গত ২৩ আগস্ট দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের রাজশাহী প্রতিনিধি ও ‘সকালের বুলেটিন’-এর সম্পাদক সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন তথ্য অধিকার আইনের আওতায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে তিনটি পৃথক আবেদন করেন। আবেদনের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সিটি কর্পোরেশনের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, হাট-বাজার ও গ্যারেজ ইজারার তথ্য এবং নগরীর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত তথ্য।
এর দুই দিন পর, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট), নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল ও অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন।
এদিন রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ভূবনমোহন পার্কে অবৈধ দখলে থাকা একটি স্থাপনায় অভিযান চালায় সিটি কর্পোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি দখলমুক্ত করার পর ভবনটি তালাবদ্ধ ও সিলগালা করে সিটি কর্পোরেশনের হেফাজতে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়াই বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন ব্যবসায়ী এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে জানায়, এ বিষয়ে একজন সচেতন নাগরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে ফুটপাতের ব্যবসায় ব্যবহৃত অনুমোদনহীন বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এদিকে, একই দিনে আরও কিছু তথ্যের জন্য তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে গেলে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবেদন গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন।
তিনি বলেন, “তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর একই বিষয়ে অভিযান হয়েছে কি না, সেটি কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আবেদন গ্রহণ না করায় কিছুটা মন খারাপ হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভালো কোনো কাজের সূচনা হলে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কারণে হোক কিংবা সাধারণ জনগণের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে—কাজ ভালো হওয়াটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরাও হকার উচ্ছেদ চাই না। আমরা চাই, হকারদের আড়ালে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে থাকে, সেই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
সাংবাদিক স্বাধীনের অভিযোগ, ফুটপাতে দোকান বসানোর জন্য হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আলাদা অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তাঁর মতে, হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া এবং ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আনা হলে একদিকে যেমন ফুটপাত দখলের সমস্যা কমবে, অন্যদিকে চাঁদাবাজি ও অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগের মতো অনিয়মও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এতে একাধিক ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। নির্দিষ্ট স্থানে ব্যবসার সুযোগ পেলে হকাররা বৈধভাবে ব্যবসা করতে পারবেন, সিটি কর্পোরেশন রাজস্ব পাবে, পথচারীরা নির্বিঘ্নে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন এবং নগরীর যানজটও কমে আসতে পারে।



















