অপরাধ - দূর্নীতি

পুলিশের দুর্বলতার সুযোগে সাধুরমোড়ে আরিফের প্রকাশ্যে ইয়াবা কারবার

  মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:২০:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীতে গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল হওয়ার সুযোগে নগরীতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, চুরি ও ছিনতাইয়ের পাশাপাশি বেড়েছে প্রকাশ্যে মাদক লেনদেন। বিশেষ করে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার এখন আর গোপন নয়—খোলাখুলিভাবেই চলছে নগরীর একাধিক এলাকায়।

 

নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার সাধুর মোড়ে প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর একাধিক সূত্রের দাবি, আরিফ বেতনভিত্তিক কর্মচারী নয়নের মাধ্যমে এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন-রাত নয়নের সঙ্গে আরিফের লেনদেন ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলমান বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিষয়টি জানতে চাইলে আরিফ নিজেকে একজন মুরগির দোকানদার বলে দাবি করে মাদক সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন। তবে এলাকাবাসীর মতে, কথাবার্তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

 

বিষয়টি যাচাই করতে নয়নের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আরিফ ওস্তাদ একটু ব্যস্ত, তাই ফোন ধরেননি। ৩০ মিনিট পর ফোন দিলে পাবেন।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে কিছু বলার থাকলে বা ওস্তাদকে কিছু জানাতে হবে কি বলতে পারেন।

 

পরবর্তীতে একাধিক বার চেষ্টার পর আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। যারা অভিযোগ করছে, তাদের সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি। নয়নের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন এবং বলেন, তার নামে কোনো মাদক মামলা নেই।

 

তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আরিফ অতীতে গাঁজা সহ আটক হয়েছিলেন। একই সূত্রের দাবি, তিনি আগে গাঁজা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে নয়নের সাথ পেয়ে বড় পরিসরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। নয়নও মাদক মামলার আসামি বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে অভিযান, বাড়তি টহলসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় দ্রুত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হবে। হাতেনাতে পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের নজরদারি ও অভিযানের মাধ্যমে সাদুর মোড়সহ নগরীর মাদকপ্রবণ এলাকাগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরও খবর

Sponsered content